রাজধানীর গ্রিন রোড থেকে শতাধিক রিকশার পার্কিং ও একাধিক রিকশা মেরামতের দোকান উচ্ছেদ করেছে পুলিশ। ওই সড়কে অতিরিক্ত রিকশা আর অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে জ্যাম লেগেই থাকতো। যার ফলে যাত্রীদেরকে ঘণ্টারও বেশি সময় রাস্তায় কাটাতে হতো। পুলিশের তৎপরতায় সড়কের চিরচেনা সেই চিত্র পাল্টে গেছে। ডিএমপির ট্র্যাফিক তেজগাঁও বিভাগ অভিযান চালিয়ে সড়কটি দখলমুক্ত করেছে।
রবিবার (১২ মে) গ্রিন রোডে সরেজমিনে ভিন্ন এক চিত্র চোখে পড়েছে। সেখানে নেই পুরাতন কোনো রিকশার লেন কিংবা ফুটপাতের সেই চিত্র। সড়কের অবস্থার এই উন্নতিতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর ছাত্র সুদিপ সৌরভ গুহ বলেন, আগে হোস্টেল থেকে বের হলেই রিকশার জন্য আমাদের বাস ঠিকমত ঘুরতেই পারত না, এমনকি আসতে যেতে অনেক সময় লেগে যেত। ইদানীং অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে।
তবে, রিকশার লেন উচ্ছেদ করে পুরো রাস্তা যানবাহন চলাচলে পুলিশ কতটুকু ধরে রাখতে পারে সেটা হয়তো সময়ই বলে দিবে এমনই এক প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন পূর্ব রাজাবাজারের বাসিন্দা মনির হোসেন।
তেজগাঁও ট্র্যাফিক বিভাগ সূত্র জানায়, গত এক সপ্তাহব্যাপী অভিযানে প্রায় ৬১টি রিকশার বিরুদ্ধে ডাম্পিংসহ অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কেই রয়েছে পানি ভবন, আইবিএ হোস্টেল, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক এবং একাধিক ভার্সিটি কোচিং সেন্টার। জনবহুল এই রাস্তায় এতদিন ছিল শতাধিক রিকশার পার্কিংয়ের পাশাপাশি একাধিক রিকশা মেরামতের দোকান। প্রায় স্থায়ী হয়ে যাওয়া এই রিকশা লেনকে ঘিরে ফুটপাতে ছিল আবার একাধিক ভাতের হোটেল, এমনকি মানুষের ফুটপাতে হাঁটার অবস্থাও ছিল না।
ট্র্যাফিক তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক আহমদ বলেন, প্রথমে আমরা মাইকিং করে রিকশা মেরামতের দোকান ও পার্কিং লেনের বিষয়ে সতর্ক করেছি। তারা ভেবেছে এতোদিন ধরে চলে আসা এসব দোকানের বিরুদ্ধে হয়তো পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেবে না। পরে আমরা অ্যাকশনে যাই, অবৈধ রিকশা লেনে পার্কিং ও রিকশা মেরামতের দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। বর্তমানে পুরো সড়ক দখলমুক্ত স্বাভাবিক রয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ট্র্যাফিক বিভাগের কাজ ড্রাইভওয়ে দখলমুক্ত রাখা, আর ফুটপাত বা ওয়াকওয়ে দখলমুক্ত রাখতে কাজ করবে ক্রাইম ডিভিশন। আমরা সড়কের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করার সঙ্গে সঙ্গে ক্রাইম ডিভিশনকে ফুটপাতের দখলের বিষয়টি জানিয়েছি। তারাও ফুটপাতের অবৈধ উচ্ছেদে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।