আকস্মিক বন্যা ও আগ্নেয়গিরির লাভায় ইন্দোনেশিয়ায় নিহত ৩৭

পশ্চিম ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে আকস্মিক বন্যা ও আগ্নেয়গিরির ঠান্ডা লাভার প্রবাহে অন্তত ৩৭ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় ১৮ জন নিখোঁজ রয়েছে এবং পরবর্তীতে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে শংকা করছে কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সময় গত শনিবার কয়েক ঘণ্টার প্রবল বৃষ্টি পাতের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যার সাথে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট মারাপির লাভার স্রোতে ভেসে যায় দ্বীপের দুটি এলাকা। খবর বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার (১১ মে) সন্ধ্যায় পশ্চিম সুমাত্রা প্রদেশের দুটি জেলা আগাম ও তানার দাতায় কয়েক ঘণ্টা ধরে ভারী বৃষ্টিপাত হয়। এর ফলে বন্যায় সুমাত্রা দ্বীপের সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট মারাপির নিচ থেকে ছাই এবং বড় পাথর সরে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ঠান্ডা লাভা ও আকস্মিক বন্যায় ১০০টিরও বেশি বাড়িঘর, মসজিদ এবং অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রবিবার বিকেল পর্যন্ত, উদ্ধারকারীরা আগাম জেলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ কান্ডুয়াং গ্রাম থেকে ১৯টি মরদেহ উদ্ধার করে। এছাড়া ন্যাশনাল সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ এজেন্সি পার্শ্ববর্তী জেলা তানাহ দাতারে আরও নয়টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে।

অনুসন্ধান অভিযানে স্থানীয় উদ্ধারকারী, পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং স্বেচ্ছাসেবীরা যোগ দিয়েছেন।

মানব সৃষ্ট জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে দিন দিন প্রকৃতি বিরূপ আচরণ করছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। ইন্দোনেশিয়ান ফোরাম ফর এনভায়রনমেন্টের পশ্চিম সুমাত্রা শাখার পরিচালক ওয়েংকি পুরওয়ান্তো বলেন, "প্রাকৃতিক সম্পদের উল্টা-পাল্টা ব্যবহার এবং আধুনিকায়নের কারণে আকস্মিক বন্যা, আগ্নেয়গিরি, ভূমিধ্স জাতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে।"

গত ছয় মাসে মাউন্ট মারাপির আশেপাশের এলাকায় বেশ কয়েকবার একই ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল। এছাড়া গত বছরের ৫ ডিসেম্বর, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে ২৩ জন হাইকারের মৃত্যু হয়েছিল।