দেশের সম্ভাবনাময় চামড়াশিল্পকে টেকসই খাত হিসেবে এগিয়ে নিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতায় একযোগে কাজ করছে বেসরকারি সংস্থা সলিডার সুইস, ওশি ফাউন্ডেশন এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন। তাদের নেওয়া কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিত জানাতে আগামী বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে উচ্চ পর্যায়ের জাতীয় সংলাপের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী।
মঙ্গলবার (১৪ মে) রাজধানীর তেজগাঁও চ্যানেল আই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সলিডার সুইসের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ অক্যুপেশনাল সেইফটি হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ফাউন্ডেশন এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে ‘বিল্ডিং এ সাসটেইনেবল লেদার সেক্টর ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তিন বছর মেয়াদী এ প্রকল্পের ইতিমধ্যে এক বছর পূর্ণ হয়েছে। এ সময় এ প্রকল্পের অগ্রগতিসহ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সংক্ষেপে তুলে ধরেন বক্তারা।
বৃহস্পতিবারের জাতীয় সংলাপের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন ডেলিগেশন অফ ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার (প্রাইভেট সেক্টর, গ্রিন এনার্জি ট্রানজেশন অ্যান্ড সোশ্যাল প্রটেকশন) ইশরাত শবনম, সলিডার সুইসের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ মোহাম্মদ আমানউল্লাহ, বাংলাদেশ অক্যুপেশনাল সেইফটি হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন সাকি রেজওয়ানা এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু। পরে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তারা।
বক্তারা জানান, বৃহস্পতিবারের ‘ন্যাশনাল হাইলেভেল ডায়ালগ ফর গ্রিনিং দ্য ট্যানারি অ্যান্ড লেদার সেক্টর ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সংলাপ চামড়া খাতের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠবে। সাভারে চামড়াশিল্প নগরীতে অতিরিক্ত বর্জ্য উৎপাদনজনিত পরিবেশ দূষণ নিরসন করার উপায়, চ্যালেঞ্জ ও কর্মকৌশল নিয়ে আলোচনা করা হবে।
ট্যানারি মালিকদের মধ্যে পরিবেশগত মান বজায় রাখার ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টি হলে বাংলাদেশের চামড়া খাত বিশ্ববাজারে আরও বড় পরিসরে জায়গা করে নিতে পারে। এতে আরও অধিক শক্তিশালী, পরিচ্ছন্ন এবং মানসম্পন্ন চামড়া খাত গঠন করার পথ ত্বরান্বিত হবে বলে দাবি করেন বক্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৬ তারিখের সংলাপে ঈদ-উল-আজহার সময় চামড়াশিল্প নগরীতে ধারণক্ষমতার চেয়ে মাত্রাতিরিক্ত বর্জ্য শোধনের উপায় নিরূপণ এবং কর্মকৌশল প্রণয়নের বিষয় নিয়েও আলোচনা হবে।
জাতীয় সংলাপে উপস্থিত থাকবেন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি, ট্যানারি মালিক, শ্রমিকনেতা, শিক্ষাবিদ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মী।