চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশে বসবাসরত বিদেশিরা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ খরচ করেছিলেন। কিন্তু এর পরের মাসেই এই পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিদেশিরা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ২৪০ কোটি টাকা ব্যয় করেছিলেন। পরের মাস মার্চে তাদের এ ব্যয় নেমে এসেছে ২২৬ কোটি টাকায়। এক মাসে ক্রেডিট কার্ডে বাংলাদেশে বিদেশিদের ব্যয় কমেছে ১৪ কোটি টাকা বা ৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে তারা ১৮২ কোটি টাকা লেনদেন করেছিলেন। ফেব্রুয়ারি মাসে তা প্রায় ৩২ শতাংশ বেড়ে ২৪০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। কিন্তু মার্চ মাসেই এই পরিমাণ আবার কমে গেল।
বাংলাদেশে মার্চে ক্রেডিট কার্ডে বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে মার্কিন নাগরিকরা খরচ করেছেন ৫৬ কোটি টাকা। এ সময়ে যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা ২৬ কোটি, ভারতের নাগরিকরা ২৩ কোটি, অস্ট্রেলিয়ানরা ৬ কোটি ও কানাডার নাগরিকরা খরচ করেছেন ৮ কোটি টাকা। এ সময়ে দেশে সিঙ্গাপুর, জাপান, ইউএই, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরব ও ইতালির নাগরিকরা ৩ কোটি থেকে ৮ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় করেছেন ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে। এর বাইরে অন্যান্য দেশের নাগরিকরা খরচ করেছেন ৫৩ কোটি টাকা।
তবে, বিদেশিদের ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ব্যয় কমলেও দেশীয়দের ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিকভাবে বাংলাদেশে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ব্যয় বেড়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে দেশের ভেতরে ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন ফেব্রুয়ারি মাসের চেয়ে ১৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে দেশের ভেতর ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা। আর মার্চ মাসে হয়েছে ২ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকা। সেই হিসাবে মার্চে বেড়েছে ৪২৯ কোটি টাকা। দেশের বাইরে গিয়েও বাংলাদেশিরা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ব্যয় বৃদ্ধি করেছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে বাংলাদেশিরা বিদেশে গিয়ে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে খরচ করেছেন ৫০৩ কোটি টাকা, যা আগের মাস ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৪৯৯ কোটি টাকা। সে হিসাবে মার্চে বেড়েছে ৪ কোটি টাকা। মার্চে বাংলাদেশিরা ক্রেডিট কার্ডে সবচেয়ে বেশি ১০৬ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন ভারতে, যদিও আগের মাসের তুলনায় তা দুই কোটি টাকা কম। অন্যদিকে ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ৬০ কোটি টাকা ব্যয় করলেও মার্চে তা তিন কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশে অনেক দিন ধরেই ডলার সংকট চলছে। এ সময় বিদেশি বিনিয়োগ এবং বিদেশিদের এদেশের অভ্যন্তরে অর্থ খরচ কমে যাওয়া দেশের অর্থনীতির জন্য কিছুটা হলেও দুঃসংবাদ। অন্যদিকে বিদেশে গিয়ে অর্থ খরচ করাও একইরকমভাবে ঋণাত্মক। যদিও মাত্র মাস তিনেকের পরিসংখ্যানে খুব বেশি সিদ্ধান্ত নেওয়ার অবকাশ নেই, তথাপি বাংলাদেশে বিদেশিদের ব্যয় নিয়ে পর্যালোচনা জরুরি। দুদিন আগে দেশ রূপান্তরের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশের অন্যতম সুহৃদ রাষ্ট্র জাপান এদেশে জাপানি বিনিয়োগ এবং কর্মরত জাপানিদের নানা অসংগতির কথা উল্লেখ করেছেন। সেসব বাধা দূর হওয়া দরকার। এদেশে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে উচ্চপর্যায় থেকে সবসময়েই আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। এগুলো মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা জরুরি। বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও অর্থ ব্যয়ের খাত সহজ করা জরুরি। এই দেশের পর্যটন খাত নিয়ে নানা অসংগতি রয়েছে। দারুণ সম্ভাবনাময় এই খাতকে আরও বেশি কার্যকর ও অর্থকরী করার সুযোগ রয়েছে।