ফ্রান্সে পলাতক বন্দি মোহাম্মদ এ নিয়ে যা বললেন মা

ফ্রান্সের নরম্যান্ডির রুয়েন শহরের কাছে দুই কারা কর্মকর্তাকে হত্যা করে মোহাম্মদ এ নামের একজন বন্দিকে ছিনিয়ে নিয়েছে অস্ত্রধারীরা। এ ঘটনায় দেশটিতে তোলপাড় চলছে। এর মধ্যেই পলাতক বন্দি মোহাম্মদ এ’র মা ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম  আরটিএলকে একটি সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।

মঙ্গলবার  (১৪ এপ্রিল) সকালের হামলার কথা শুনে তিনি বলেন, ‘আমি ভেঙে পড়েছি, কেঁদেছি। এভাবে জীবন কেড়ে নেওয়া যায়?’ তিনি জানান, কারাগারে তার ছেলেকে শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছিল। তবে ছেলে তাকে পালাবার পরিকল্পনা সম্পর্কে কখনো কিছু বলেনি।

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে আমার সঙ্গে কথা বলে না। আমি বুঝতে পারি না।’ 

ফ্রান্সের আইনমন্ত্রী এরিক ডুপন্ড-মোরেটি বলেছেন, মঙ্গলবারের এ হামলায় দুই কারারক্ষী মারা গেছেন। একজন স্ত্রী ও দুই সন্তানকে রেখে গেছেন। দুই দিন পর তাদের ২১তম জন্মদিন উদযাপন করার কথা ছিল। অন্যজন পাঁচ মাসের গর্ভবতী স্ত্রীকে রেখে গেছেন। এছাড়াও হামলায় আহত হয়েছেন আরও তিন কর্মকর্তা। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে দুজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। 

বিবিসি জানিয়েছে, ১৯৯৪ সালে জন্ম নেওয়া মোহাম্মদ এ মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ও হত্যাচেষ্টার বেশ কয়েকটি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত। এদিন সকালে রুয়েনে আদালতের শুনানিতে অংশ নেওয়ার পর বন্দিকে ইভরেক্স শহরের কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়। মহাসড়কে একটি টোল বুথের কাছে স্থানীয় সময় ১১টা নাগাদ অতর্কিত হামলাটি হয়।

জানা গেছে, বেশ কয়েকজন ব্যক্তি হামলায় অংশ নেয়। দুটি গাড়িতে করে প্রিজন ভ্যানের কাছে পৌঁছেছিল তারা। বন্দি ব্যক্তি ও হামলাকারীরা একটি গাড়িতে করে পালিয়ে যায়। পরে গাড়িটি কাছেই পুড়ে যাওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়।

পলাতক মোহাম্মদ এ’র আইনজীবী হুগেস ভিজিয়ার বলেছেন, যা ঘটেছে তাতে আমি হতবাক। এই সহিংসতা অকল্পনীয়। আমি বিশ্বাস করতে চাই আমার মক্কেল তাকে মুক্ত করার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতেন না। তিনি এভাবে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেননি।