গাজার উদ্দেশ্যে আসা ত্রাণবাহী ট্রাকগুলোকে আটকে দিয়ে ত্রাণ নষ্ট করেছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। এ সময় তারা ট্রাক থেকে খাবারের প্যাকেটগুলো রাস্তায় ফেলে দেয় এবং শস্যের ব্যাগগুলো ছিঁড়ে রাস্তায় ফেলে দেয়।
স্থানীয় সময় সোমবার এ ঘটনা ঘটেছে অধিকৃত পশ্চিম তীরে। সেদিনজর্ডান থেকে ত্রাণ নিয়ে আসা লরিগুলো হেবরনের পশ্চিমে তারকুমিয়া চেকপয়েন্টে থেকে গাজার দিকে যাচ্ছিল। সে সময় সেখানে হামলা চালায় একদন ইসরায়েলি বিক্ষোভকারী।
সে সময় তারা ত্রাণবাহী লরিগুলোকে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং ত্রাণ নষ্ট করে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত কিছু ভিডিওতে দেখা যায় যে, ইসরায়েলি বিক্ষোভকারীরা লরি থেকে ত্রাণের বাক্সগুলো মাটিতে ফেলে দিচ্ছেন। কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে যে সন্ধ্যার পরে ত্রাণের গাড়িতে আগুন দেওয়া হচ্ছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তযাভ ৯ অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপ এই বিক্ষোভ এবং ত্রাণের গাড়িতে হামলার জন্য দায়ী। ইসরায়েলি গণমাধ্যমে এই গ্রুপকে একটি ডানপন্থী গোষ্ঠী হিসাবে বলা হয়েছে যারা জিম্মি মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত গাজায় মানবিক সহায়তা সরবরাহ বন্ধ রাখতে চাইছে।
বিক্ষোভরত গ্রুপটিও একই কথা জানিয়েছে যে তারা গাজায় ইসরায়েলি জিম্মিদের আটকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে।বিক্ষোভ থেকে একজন নাবালকসহ চার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
এদিকে এই হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে ত্রাণের গাড়িতে হামলা ও লুটপাটকে "সম্পূর্ণ ক্ষোভ" হিসাবে বর্ণনা করেছে হোয়াইট হাউজ।
এদিকে ইসরায়েলের জোরদার হামলা ও ত্রাণ সরবরাহ আটকে দেওয়ায় উত্তর গাজার ফিলিস্তিনিরা "সম্পূর্ণ দুর্ভিক্ষের" কবলে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি।
এছাড়া পূর্ব রাফাতে ইসরায়েলের অভিযানের কারণে বন্ধ রয়েছে রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং। এতে করে চরম অবনতি হয়েছে সেখানকার মানবিক পরিস্থিতির। ত্রাণ সংস্থাগুলো বলছে, অন্য দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রসিং কেরেম শালোমে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে ত্রাণ সরবরাহ।
এতে করে পুরো গাজা উপত্যকায় উত্তর গাজার মত পরিস্থিতি দেখা দেয়ার শংকা করছে ত্রাণ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো।