দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দেওয়ার জন্য সময় বেধে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তবে নির্দিষ্ট সময় পার হলেও কয়েকটি দল তাদের নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব কমিশনে জমা দেয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি এখন সাধারণ নিয়মে পরিনত হয়েছে। এ জন্য একদিকে যেমন নির্বাচন কমিশনেরও দুর্বলতা আছে, তেমনি আইনগত দুর্বলতাও রয়েছে। ফলে নির্বাচনে অংশ নেয়া দল ও প্রার্থীরা এমন সুযোগ পাচ্ছে।
গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় ২৮ টি রাজনৈতিক দল। এর মধ্যে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, জন বাংলাদেশ ন্যশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ (কুঁড়েঘর), গণফ্রন্ট এখন পর্যন্ত তাদের নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়নি।
জাতীয় নির্বাচন সংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে নির্বাচন শেষ হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে রাজনৈতিক দলের ব্যয়ের হিসাব ইসিতে দাখিল করার বিধান রয়েছে। আইনে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচনি ব্যয়ের বিবরণী জমা না দিলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ন্যূনতম দুই থেকে সাত বছরের কারাদণ্ডের শাস্তি বা জরিমানার বিধান রয়েছে। আর দলের ক্ষেত্রে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, এমনকি নিবন্ধন বাতিলেরও বিধান রয়েছে।
নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থীদের জন্য কত ব্যয় করতে পারবে, তা আইনে নির্ধারণ করে দেওয়া আছে। কোনো দলের প্রার্থী ২০০ জনের বেশি হলে সর্বোচ্চ ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা, প্রার্থীর সংখ্য ১০০ জনের বেশি তবে ২০০ জনের কম হলে ব্যয় করতে পারবে ৩ কোটি টাকা। কোনো দলের প্রার্থীর সংখ্যা ৫০ থেকে ১০০ হলে সেই দল দেড় কোটি টাকা এবং প্রার্থীর সংখ্যা ৫০ জনের কম হলে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারবে। এই ব্যয়ের ক্ষেত্রে ভোটারপ্রতি সর্বোচ্চ দেড় টাকা ব্যয় করা যাবে।
এ বিষয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, এটি একটি পুরনো সমস্যা । নির্বাচনে যারা অংশগ্রহণ করেন তাদের অনেক ক্ষেত্রে এ বিষয়ে উদাসীনতা লক্ষ্য করা যায়। আয় ব্যয়ের হিসাব না দিলে পরে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বিজয়ী প্রার্থীতা বাতিল করা বা যারা পরাজিত হয়েছে তারা ভবিষ্যতে প্রার্থী যেন না হতে পারে এ জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা এ ধরনের কোন নিয়ম বা আইন নাই। এটা কড়াকড়ি করতে গেলেও তারা সময় চায় । নির্বাচন কমিশনও সময় বাড়িয়ে দিতে থাকে । আর কেউ কেউ সময়ও চায় না। কিন্তু এটা নিয়ে যে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ তা নেয়া হয় না।
তিনি বলেন, এটা এখন রিচুয়ালে পরিনত হয়েছে । দিলে দিলো না দিলে না দিলো। এ বিষয়ে তাগাদা দেওয়ার কথা রিটার্নিং কর্মকর্তার। যে পরিমান প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়ে থাকে তাতে কমিশন একা সমন্বয় করতে পারবে না।
রিটার্নি অফিসাররা যেহুত প্রশাসনের হয় নির্বাচন শেষ হয়ে গেলে তাদেরও আর কোন দায় দায়িত্ব থাকে না। পালনও করেন না। অনেক গুলো অসুবিধা আছে। একদিকে যেমন নির্বাচন কমিশনের দুর্বলতা আছে তেমনি আইনগত দুর্বলতাও আছে। কমিশনের উদ্যোগের অভাবও রয়েছে। আবার কমিশনের আইনগত যে ভিত্তি সেটাও শক্ত না। এ জন্য সংকটগুলো থেকেই যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, নির্ধারিত সময় তারা ব্যয়ের হিসাব না দেওয়ায় তাদের দশ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। এরপর একমাস সময় দেওয়া হবে। এর মধ্যে যদি তারা হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে তাদের নিবন্ধন কেন বাতিল করা হবে না এ মর্মে একটি শোকজ দেওয়া হবে।