চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদে বিল এলাকার ১০ একর জমিতে মাটি ভরাট করে নভোথিয়েটার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে অন্তত ৮ একরই তিন ফসলি জমি। এলাকাবাসী বলছেন, যেখানে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে সেখান দিয়ে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলসহ বিস্তীর্ণ এলাকার পানি নিষ্কাশন হয়ে বিভিন্ন খাল হয়ে হালদা নদীতে গিয়ে পড়ে। এই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না রেখেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে সারা বছর পানিতে ডুবে থাকবেন ওই এলাকার অন্তত ৪০ হাজার মানুষ। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, তাদের পানিবন্দি হয়ে পড়ার শঙ্কার কথা প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হলেও তারা বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন না।
জানা গেছে, দেশের প্রত্যেক বিভাগীয় শহরে নভোথিয়েটার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। যার অংশ হিসেবে চট্টগ্রামেরটির জন্য ফতেয়াবাদের হাজীপাড়ার কুইজ্জা বিলের ১০ একর ভূমি বেছে নেওয়া হয়েছে।
গত ১১ মে প্রকল্পের মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত সচিব নুরুল আলম প্রকল্প এলাকা ফতেয়াবাদের হাজীপাড়া পরিদর্শনে গেলে বিষয়টি জানতে পারেন এলাকাবাসী। প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখার সময় বর্ষা মৌসুমে পানিবন্দি হয়ে পড়ার আশঙ্কার কথা এলাকাবাসী নভোথিয়েটার প্রকল্পের শীর্ষ এই কর্মকর্তাকে জানান। কিন্তু তিনি বিষয়টি আমলে না নিয়ে উঁচু করে মাটি ভরাটের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা উপস্থিত এলাকাবাসীকে জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রকৌশলী মুহাম্মদ সেলিম বলেন, ‘হাজীপাড়ার কুইজ্জা বিলের ১০ একর ভূমিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, মূলত এই বিল দিয়ে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল, খাগড়িয়া ছড়ারকুল, ব্রাহ্মণপাড়া ও হাজীপাড়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকার পানি নিষ্কাশন হয়ে বিভিন্ন খাল হয়ে হালদা নদীতে গিয়ে পড়ে। ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না রেখেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে সারা বছর পানিতে ডুবে থাকবেন এখানকার অন্তত ৪০ হাজার মানুষ।’
স্থানীয় বাসিন্দা মুক্তার হোসেন বলেন, ‘প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের দিন এলাকার গণ্যমান্যরা নভোথিয়েটার প্রকল্পের ডিজির কাছে প্রকল্প নির্মাণ পরিকল্পনায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা রাখা নিয়ে স্থানীয় ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ড কাউন্সিলরের পরামর্শ নেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেন। এ সময় উত্তরে ডিজি সাহেব বলেন, ‘আমাদের কারও সঙ্গে সমন্বয় করার দরকার নেই। কোথাকার পানি কোন দিক দিয়ে গেল সেটি নিয়ে আমরা কারও সঙ্গে কথা বলব না।’
সুষ্ঠু পরিকল্পনা ছাড়া প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়বেন স্থানীয়দের এমন আশঙ্কার বিষয়ে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার প্রকল্পের ডিজি নুরুল আলম বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে দেশ রূপান্তরকে শুধু বলেন, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে।’
স্থানীয়দের ভাষ্য, নভোথিয়েটার প্রকল্প বাস্তবায়ন হোক, সেটা তারাও চান। কিন্তু প্রকল্পটি হতে হবে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা রেখে এবং তিন ফসলি জমি রক্ষা করে। প্রকল্প এলাকার ১০ একর জায়গার মধ্যে অন্তত ৮ একরই তিন ফসলি জমি। এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষিনির্ভর। কুইজ্জা বিলে চাষাবাদ করে তারা জীবিকা নির্বাহ করেন। পশ্চিম খাগড়িয়া ছড়াকুলের বাসিন্দা মো. ইউনুচ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা রয়েছে যে কৃষিজমি নষ্ট করে প্রকল্প নয়। কিন্তু এক শ্রেণির অতিউৎসাহী সরকারি আমলা তিন ফসলি জমি নষ্ট করে প্রকল্প বাস্তবায়নে তোড়জোড় চালাচ্ছেন। তাও আবার ৪০ হাজার মানুষকে পানিবন্দি থেকে মুক্ত করার সুষ্ঠু পরিকল্পনা না করেই।’
প্রায় ৬০০ কোটি টাকার এই প্রকল্প চলতি মাসের শেষের দিকে অনুষ্ঠিতব্য একনেক সভায় অনুমোদন পেতে পারে বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার প্রকল্প, ঢাকার উপপরিচালক শফিকুল ইসলাম সরকার।