৫০ বছর ধরে রোজা রাখা কুড়িগ্রামের দিনমজুর ইনছান আলী (৮০) এবার হজে যাচ্ছেন। এ খবরে দারুণ খুশি আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বাহালুল হক চৌধুরীর সহযোগিতায় আগামী ১০ জুন তার হজে যাওয়ার কথা রয়েছে।
৯ সন্তানের জনক ইনছান আলী কুড়িগ্রাম সদরের হলোখানা ইউনিয়নের সারডোব গ্রামের বাসিন্দা। এর আগে তাকে নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে অনেকের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইনছান আলী নিয়মিত নামাজ আদায়ের পাশাপাশি একটানা রোজা রাখা শুরু করেন। এভাবেই কেটে গেছে তার ৫০ বছর। বছরে শুধু পাঁচ দিন বাদে সারা বছরই পালন করেছেন রোজা।
৫০ বছর রোজা পালন ও হজে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ইনছান আলী বলেন, গরীব ঘরে জন্ম আমার। পৈতৃক সূত্রে ভিটা ও কিছু ফসলি জমি ছাড়া আমার আর কিছুই নাই। অভাব অনটনেও আমি কখনো রোজা ছেড়ে দেইনি। রোজা রাখতে গিয়ে প্রথম প্রথম একটু কষ্ট হত। বাড়ির লোকজন অসুবিধাবোধ করত। পরে অবশ্য সব ঠিক হয়ে যায়।
তিনি বলেন, আমার ছয় ছেলের মধ্যে দুজন মারা গেছে। বাকিরা বিয়ে করে আলাদা সংসার পেতেছে। তিন মেয়ের সবাইকে বিয়ে দিয়েছি। তবে অভাব দূর হয়নি। ছেলেরা দিনমজুরি করে যা আয় করে তা থেকে আমাকে কিছু দেয়। তা দিয়ে কোনরকমে দিন চলে যেত। অভাবের সংসারে রোজা রাখাও অনেক সময় কষ্টের। কতদিন যে শুধু পানি খেয়ে রোজা রেখেছি। সেহরিতে খাবার না থাকায় মুড়ি, চিড়া কখনো কচু গাছ সেদ্ধ করে খেয়েছি। যত কষ্টই হোক রোজা ছাড়িনি।
ইনছান আলী বলেন, ইফতার করে নামাজ আদায় করে খোদাকে বলতাম আমাকে হজ করার তৌফিক দেন। আমার নিজের তো খরচ জোগানোর ক্ষমতা নাই। ছেলেরা আমাকে হজে পাঠাবে তাদেরও সাধ্য নাই। নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। তবু হতাশ না হয়ে খোদার কাছেই চাইতাম। আল্লাহ আমার হজে যাওয়ার ইচ্ছা কবুল করেছেন। আমার হজে যাওয়ার উছিলা হিসেবে বাহালুল হক চৌধুরীকে পাঠিয়েছেন। স্যারের সহযোগিতায় আগামী মাসের ১০ তারিখ রওয়ানা দিব।
ইনছান আলীর প্রতিবেশী নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি চাচা প্রতিদিনই রোজা রাখেন। তিনি অত্যন্ত ধার্মিক মানুষ। এক ওয়াক্ত নামাজ কাজা করেন না। দেখা হলেই হজে যাওয়ার কথা বলতেন। আল্লাহ উনার নিয়ত কবুল করেছেন।
স্কুল শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, অভাব অনটনের সংসারে থেকেও ইনছান আলী কখনও ধর্মবিমুখ হননি। টানা প্রায় ৫০ বছর ধরে রোজা পালন করে আসছেন। তার হজে যাওয়ার যিনি ব্যবস্থা করেছেন আমরা এলাকাবাসী তার কাছে কৃতজ্ঞ।