আগামী এক বছরের মধ্যে সারা দেশে আরও অন্তত ১২টি থিয়েটার (স্ক্রিন) চালু করতে যাচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ মাল্টিপ্লেক্স চেইন স্টার সিনেপ্লেক্স। এর মধ্যে রাজধানীর উত্তরায় চারটি, নারায়ণগঞ্জে তিনটি, চট্টগ্রামে দুটি, বগুড়ায় দুটি করে চালু হবে চলতি বছরেই। ঢাকার গুলশান-বনানী এলাকায় অত্যাধুনিক মানের ও কুমিল্লায় সিনেপ্লেক্স চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। কক্সবাজারে প্রস্তুতি রয়েছে, অনুমতি পেলে এবং দেশের উপজেলা পর্যায়ে চালু হবে সিনেপ্লেক্সের শাখা। এমনটাই জানালেন স্টার সিনেপ্লেক্সের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক (মিডিয়া ও বিপণন) মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ। থিয়েটারের সংখ্যাটি বাড়তে পারে বলেও জানালেন সিনেপ্লেক্সের এ কর্মকর্তা।
সম্প্রতি ঢাকা ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঠিক একই কথা জানিয়েছিলেন মাহবুব রহমান রুহেল। দুই দশকের যাত্রাপথে স্টার সিনেপ্লেক্স দেশ-বিদেশের ছবি প্রদর্শন করে আলোচনায় এসেছে। একই সময় বাইরের দেশের সিনেমার তুলনায় দেশের সিনেমা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগেও অভিযুক্ত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে মাদকমুক্ত যুব সমাজ গড়তে সুস্থ বিনোদনের প্রয়োজনীয়তা বোধ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এমন বোধ থেকেই ক্রমে স্টার সিনেপ্লেক্সের শাখা বাড়ানো হচ্ছে বলে জানালেন মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ।
মেসবাহ উদ্দিন বলেন, ‘আসলে যুব সমাজকে মাদকমুক্ত করতে বিনোদনের কোনো বিকল্প নেই। আমরা এ জন্যই সিনেপ্লেক্সের শাখা ক্রমেই বাড়ানোর চেষ্টা করছি। ভালো মানের সিনেমা চালানের ফলে স্টার সিনেপ্লেক্সের শাখা ক্রমেই বাড়ছে। এখানে নিম্নমানের কোনো সিনেমা চলে না। চট্টগ্রামের বালি আর্কেডে বছর দেড়েক আগে স্টার সিনেপ্লেক্সের শাখা চালু করেছি। চট্টগ্রামে আমরা অনুভব করেছি শাখা বাড়ানো দরকার। একইভাবে ঢাকার উত্তরায় একটি শাখা, যেখানে চারটি থিয়েটার থাকছে, বগুড়া ও নারায়ণগঞ্জে একটি করে শাখা চালু হতে যাচ্ছে; যেখানে দুটি ও তিনটি করে থিয়েটার রয়েছে। কুমিল্লার কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। সবমিলিয়ে অন্তত ১২টি স্ক্রিন এ বছরের মধ্যেই চালু হতে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য এক হাজার স্ক্রিন। আমরা সেভাবেই এগিয়ে যাচ্ছি।’
সিনেপ্লেক্স শুধু নগরকেন্দ্রিকতায় নয়, মফস্বল শহরেও পৌঁছে যাবে। সেখানে যেহেতু ঘর ভাড়া কম, তাই কম মূল্যে সিনেমা দেখতে পারবে মফস্বল শহরের মানুষজন। আমরা শিগগিরই উপজেলা পর্যায়ে স্টার সিনেপ্লেক্সের শাখা চালু করব। তবে এ বছরের একটি স্ক্রিনের পাশাপাশি আমাদের লক্ষ্য রয়েছে কক্সবাজারে। এত বড় একটি পর্যটন নগরী অথচ কোনো সিনেমা হল নেই। তাই আমরা অনুমতি পেলেই কক্সবাজারে চালু করব। অন্যদিকে বনানী ও গুলশানের যেকোনো একটি জায়গায় অত্যাধুনিক মানের সিনেপ্লেক্স হতে যাচ্ছে।
স্টার সিনেপ্লেক্সে কর্র্তৃপক্ষ সবশ্রেণির মানুষের কাছে বিনোদন পৌঁছে দিতে চায় এমনটাই ভাষ্য প্রতিষ্ঠানটির।