মাদরাসা অধ্যক্ষের নিয়োগ বাণিজ্য!

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল ওহাব মহিলা আলীম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা বেলায়েতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদে ৫০ লক্ষাধিক টাকা ঘুষ নিয়ে নিয়োগের পাঁয়তারার অভিযোগ উঠেছে। মাদরাসা সংলগ্ন বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ (আবু মাস্টার), মাদরাসার ডিজি, মহাপরিচালক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে আলীম স্তরে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রথম ধাপে ৬ জন প্রভাষক নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও দ্বিতীয় ধাপে (বর্তমানে) ৫টি শূন্যপদে এ পর্যন্ত ৫ বার পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। অধ্যক্ষের পছন্দের লোকের আবেদন না থাকায় বিষয়টি এখন পর্যন্ত অমীমাংসিত রয়েছে। এতে প্রকৃত মেধাবী প্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। তার অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ কমিটির কিছু সদস্য তদন্ত করলে একাধিকবার তার অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মেলে। তবে রহস্যজনক কারণে সকল তদন্তকারী সংস্থা মাঝ পথে হাত গুটিয়ে নেয়।

বিদ্যোৎসাহী রুম্মান মল্লিক জানান, অধ্যক্ষ মাওলানা বেলায়েত হোসেন প্রতিনিয়ত দুর্নীতি করছেন, যা মঠবাড়িয়ার অধিকাংশ জনগণ জানেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে ৫টি নিয়োগ কার্যক্রম চলমান। প্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময় চাহিদা মাফিক অর্থ হাতিয়ে নিয়ে রিটেন, ভাইবা ছাড়াই অযোগ্যদের নিয়োগের পাঁয়তারা করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে মাওলানা বেলায়েত হোসেন বলেন, নিয়োগ বোর্ডের সকল নিয়ম কানুন মান্য করে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আমি ও আমার প্রতিষ্ঠানের মান ক্ষুণ্ণ করার লক্ষ্যে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। যার কোনোটির সাথে আমার সংশ্লিষ্টতা নেই।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল কাইয়ুম বলেন, আমার কাছে অধ্যক্ষ বেলায়েতের বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগ এসেছে। বিষয়টির সত্যতার প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডিজির প্রতিনিধি মো. জহিরুল ইসলাম জানান, শূন্যপদে ৫ জনের নিয়োগ সংক্রান্ত অধিদপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ এসেছে। সঠিক তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগের সকল কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।