পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, ‘সন্ত্রাস ও জঙ্গি নির্মূলে পুলিশ সফল হয়েছে। সারা দেশে জঙ্গিরা একদিনে ৬৩ জেলায় জঙ্গি হামলা করে তাদের সক্ষমতা দেখিয়েছিল। তাদের সেই ধৃষ্টতা ও অবস্থান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। জঙ্গি পুরোপুরি নির্মূল করেছি— একথা আমরা বলবো না। যেকোনো অপরাধই নির্মূল করা হয়তো সম্ভব নয়। তবে জঙ্গিবাদ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ সক্ষম হয়েছে। দেশে-বিদেশে উন্নত প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম যুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশ পুলিশ জঙ্গি দমনে বিশেষ সাফল্য দেখিয়েছে। পেশাদারত্বের সঙ্গে দেশের নাগরিকদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।’
আজ রবিবার সিলেটের পুলিশ সুপার কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু কর্ণার ও কনফারেন্স রুম উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে আইজিপি এসব কথা বলেন।
দেশে চলমান উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকা প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যে নির্দেশনা দিয়ে থাকে তার আলোকেই দায়িত্ব পালন করে পুলিশ। অতীতেও পুলিশ সদস্যরা দক্ষতার সঙ্গে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করেছে এবং সবার কাছে প্রশংসা কুড়িয়েছে।’
আইজিপি আরও বলেন, ‘যারা অনেক কাজ করে তাদের ভুলত্রুটিও বেশি হয়। বাংলাদেশ পুলিশ যেকোন উদ্দেশ্যমূলক ভুলত্রুটির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলে।’
বিচারের আগে মিডিয়া ট্রায়ালকে অমানবিক উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ‘বিচারের আগে মিডিয়া ট্রায়াল আইনত বন্ধ থাকার কথা থাকলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তবে এখন আগের চেয়ে অনেক কম হচ্ছে। তারপরও ফেইসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আটক বা অভিযানের বিষয়গুলো এখনো ছড়িয়ে পড়ে। বিচারের আগে মিডিয়া ট্রায়াল পুরোপুরি বন্ধ করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
দুপুরে সিলেটে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু কর্ণারের উদ্বোধন করেন পুলিশ প্রধান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, পুলিশের সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি শাহ মিজান শাফিউর রহমান, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জাকির হোসেন খান, সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
পুলিশ সুপার কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু কর্ণার বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেছে সিলেটের বিয়ানীবাজারের ইসরাফ—তসিরা শিক্ষা সেবা ফাউন্ডেশন। বঙ্গবন্ধু কর্ণারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা গ্রন্থ, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস—ঐতিহ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন বই স্থান পেয়েছে।