এই দিনে

বাংলাদেশের আধুনিক চিত্রশিল্পের অন্যতম পথিকৃৎ শিল্পী সফিউদ্দীন আহমেদ ২০১২ সালের এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯২২ সালের ২৩ জুন কলকাতার ভবানীপুরের নন্দন রোডে পিতৃগৃহে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতার পদ্মপুকুর হাইস্কুলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার পর ১৯৩৬ সালে তিনি কলকাতা সরকারি আর্ট স্কুলে ভর্তি হন। ছাত্রাবস্থাতেই সাঁওতাল পরগনার দুমকা অঞ্চলে আঁকা চিত্রমালা শিল্পী হিসেবে তাকে খ্যাতি এনে দেয়। ১৯৪২ সালে তিনি চারুকলা বিভাগ থেকে স্নাতক সমাপ্ত করেন এবং জলরং ও তেলরঙের পাশাপাশি কাঠখোদাই মাধ্যমটি গভীরভাবে রপ্ত করেন। সেখান থেকেই ১৯৪৬ সালে শিক্ষকতার প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করেন। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের এই সহযাত্রী ১৯৪৮ সালে ঢাকায় সরকারি আর্ট স্কুল প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। দেশের ছাপচিত্রকলার তিনিই শিল্পগুরু। প্রতিষ্ঠার সময় থেকে শিক্ষকতায় যোগ দিয়ে, ঢাকার আর্ট স্কুলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে রূপান্তরিত হওয়ার পর, ছাপচিত্র বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে অবসর নেন তিনি। ১৯৫৮ সালে যুক্তরাজ্যের সেন্ট্রাল স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড ক্র্যাফটস থেকে এচিং ও এনগ্রেভিংয়ে সম্মানের সঙ্গে ডিপ্লোমা লাভ করেন। ১৯৪৫ সালে কলকাতা অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টসের ‘অ্যাকাডেমি প্রেসিডেন্ট পদক’, ১৯৪৭ সালে ভারতের ‘দ্বারভাঙ্গা মহারাজার স্বর্ণপদক’ এবং ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান সরকারের ‘প্রেসিডেন্ট পদক’ লাভ করেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৮ সালে চারুকলায় অবদানের জন্য ‘একুশে পদক’ এবং ১৯৯৬ সালে ‘স্বাধীনতা পদক’ লাভ করেন। শিল্পগুরু অভিধায় ভূষিত সফিউদ্দীন আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের চারুশিল্পের ভুবনে এক মহিরুহের মতো ছায়া বিলিয়ে গেছেন।