আমাদের দেশে ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিকের চর্চা কম হচ্ছে

সম্প্রতি সাকিব আল হাসানের সঙ্গে একটি আইসক্রিমের বিজ্ঞাপন করে আলোচিত হয়েছেন সংগীত পরিচালক অদিত রহমান। ২০০৯ সালে অদিত ফিচারিং অন্তহীন অ্যালবামের মাধ্যমে সংগীত পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ। কোক স্টুডিও বাংলার আলোচিত কিছু গানের সংগীতও তার করা। অদিতের সঙ্গে সংগীতের নানা বিষয় নিয়ে মুখোমুখি হয়েছেন মাহতাব হোসেন

গল্পটা শুরুর দিকের

আমার সংগীতে হাতেখড়ি হায়দার হোসেনের কাছে। তার কাছেই আমি গিটার শিখেছি, সঙ্গীত শিখেছি। চলচ্চিত্রে অর্ণবদার সঙ্গে কাজ করেছি। অর্ণবদার (শায়ান চৌধুরী অর্ণব) সহকারী মনপুরা চলচ্চিত্রের সংগীত করেছি। পরে জাগো চলচ্চিত্রে একটি গান করলাম। ঢাকা অ্যাটাকের একটিও, মিশন এক্সট্রিমের একটি, দেহরক্ষীসহ বেশ কিছু চলচ্চিত্রে কাজ করা হয়েছে, এখনো চলছে। 

কোক স্টুডিওর প্রথম গান

কোক স্টুডিও সিজন ওয়ানে নাসেক নাসেক-এর সংগীত আয়োজন করেছিলাম। আর সিজন টুতে করেছিলাম সন্ধ্যাতারা। এ ছাড়াও আমার গুরু অর্ণব আল্লাহ মেঘ দে, লীলাবালীসহ একাধিক গানে সহযোগিতা করেছি। আর আমার সম্পূর্ণ সংগীত আয়োজনে এখনো দুটো গান রয়েছে, যেটা এখনো প্রকাশ করেনি। তো একটা সময় মনে হলো যে, প্রতিষ্ঠান কোক স্টুডিও পরিচালনা করছে তাদের সঙ্গে এথিক্যাল জায়গা থেকে আসলে আমার সংঘর্ষ বাধছে, ফলে আমি ছেড়ে দিই।

ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিক

দেশে আসলে লোকসংগীত নিয়ে যেভাবে কাজ হচ্ছে, যেভাবে আমরা সবাই পুরনো গানের দিকে ঝুঁকে পড়ছি, সেই অর্থে কিন্তু নতুন গানের দিকে আমরা যাচ্ছি না। এর অর্থ এই নয় যে, নতুন হচ্ছে না। আমি বলছি আমাদের দেশে যেভাবে লোকসংগীত নিয়ে চর্চা হচ্ছে সেভাবে ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিক চর্চা হচ্ছে না। ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিক নিয়ে সামনে প্রকাশ পাবে এমন কিছু কাজ করেছি। এ ছাড়া নৈঃশব্দ্য নামে একটি চলচ্চিত্রে গান করেছি, আরও কিছু প্রজেক্ট রয়েছে।

অর্কেস্ট্রা টিমের স্বপ্ন

আমি আসলে অ্যাকোস্টিক বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা করি। আমাদের দেশে একটি ছবির বাজেট যদি দুই কোটি টাকা হয় তাহলে সংগীতের ওপর বাজেট থাকে মাত্র দশভাগ। এই দশভাগ দিয়ে সংগীত আসলে হয় না। আমি চাই একটা অর্কেস্ট্রা টিম দিয়ে সংগীতটা করতে। যেটা আমাদের দেশে সম্ভব নয়। এটার জন্য যদি আমি চেন্নাইয়ে গিয়ে অর্কেস্ট্রা টিম দিয়ে সাউন্ড রেকর্ডিং করি, তাহলে সেটায় খরচ হবে ১৫ লাখ রুপির মতো। এত বাজেট তো নেই। আমার স্বপ্ন আছে আমি অর্কেস্ট্রা টিম গঠন করে একদিন চলচ্চিত্রের সংগীত প্রযোজনা করব।

অভিনয়

আমার জন্ম আসলে এফডিসিকে ঘিরেই। আমার বাবা একজন প্রযোজক। তার হাত ধরে এ দেশের অনেক শক্তিমান অভিনেতা উঠে এসেছেন। তাই বলা যায়, অভিনয়টাও আমার জীবনের অংশ। আমি কিছুদিন আগে বাংলালিঙ্কের একটা কাজ করেছিলাম। সেটার ডিরেক্টর ছিলেন আজমান রুশো। তিনি আমাকে বললেন, ভাই আপনাকে একটা চরিত্র করতেই হবে। এমনভাবে বলল, আমি কীভাবে না করি। যদিও এটাই আমার প্রথম নয়, এর আগে আদনান আল রাজীব আমাকে একটা বিজ্ঞাপন করিয়েছিলেন। আর এই আইসক্রিমের বিজ্ঞাপনে সাকিব আল হাসান ছিল, দারুণ মজা হলো কাজটা করে। প্রচুর প্রতিক্রিয়া পাচ্ছি।