গাইবান্ধার সাত উপজেলায় বোরো ধান কাটা মাড়াইয়ের ভরা মৌসম চলছে। এরমধ্যে গত রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত টানা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়েছে। বৃষ্টি আর হালকা বাতাতে ধান মাটিতে পড়েছে গেছে। এতে পাকা বোরো ধান ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে জমিতে কেটে রাখা ধান নিয়ে কৃষকরা বিপাকে পড়েছে। ধানগুলো ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় বোরো চাষীরা। একদিকে শ্রমিকসংকট অন্যদিকে বৃষ্টির বাগড়া। টানা বৃষ্টিতে ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছে কৃষকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, এ বছরে জেলার সাত উপজেলায় ১ লক্ষ ২৮ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে। এবার ফলনও ভালো হয়েছে। সম্ভাব্য উৎপাদন হবে ৮ লক্ষ ৫৮ হাজার ৫৯৫ মেট্রিকটন ধান। জেলায় বোরো মৌসুমে ৭৩ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে।
একাধিক কৃষক জানান, বোরো ধানের নিচু কিছু জমিতে বৃষ্টির পানি জমেছে। আবার কোথাও কোথাও কাটা ধান মাঠে পড়ে আছে। রাস্তায় শুকানোর জন্য দেওয়া পল বৃষ্টিতে ভেজে গেছে। তারা জানান, দুই একদিনের মধ্যে রোদ না হলে জমি থেকেই কাটা ধান নষ্ট হবে। এরমধ্যে এসব ধান ঘরে তুলতে বাড়তি খরচ হবে। একই সঙ্গে অনেকের পল নষ্ট হবে। এতে গো খাদ্যের সংকট দেখা দিতে পারে। বেশি টাকা দিয়েও মিলছে না ধান কাটা শ্রমিক।
পলাশবাড়ী উপজেলার কুমারগাড়ি গ্রামের কৃষক সুলতান খন্দকার বলেন, এবার তো বৃষ্টি কম, আকাশ ভালো। তাই ধান কেটে জমিতে রেখেছিলাম শুকানোর জন্য, কিন্তু রাতে বৃষ্টি। জমিতে পানি জমেছে।
একই গ্রামের আইয়ুব মিয়া বলেন, প্রায় ৫০ শত জমিতে ধান কেটে রাখা আছে, কিছু জমিতে পানি জমেছে। এবার শ্রমিক সংকটের কারণে বাড়তি টাকা দিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে। এবার শুকনাতে কাটা-আনাসহ বিঘা প্রতি ৩ হাজার ৩০০ টাকা খরচ হত। এখন ১-২ হাজার টাকার বেশি লাগছে।
সদর উপজেলার চকবরুল গ্রামের আতিকুর রহমান, জমি থেকে ধান ঘরে তোলা নিয়ে চিন্তার শেষ নেই। শ্রমিকসংকট, অন্যদিকে বৃষ্টি বাগড়া দিয়েছে। নিচু জমিতে জমেছে। আমার মতো অনেক কৃষক ধান কেটে রেখেছে।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক খোরশেদ আলম জানান, গাইবান্ধায় ৭৩ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। এ বৃষ্টিতে ধানেরও তেমন ক্ষতি হবে না। তবে যেসব জমিতে ধান কেটে রাখা হয়েছে। সেগুলো কিছু সমস্যা হবে।