কলকাতায়, বিহারে নাকি দিল্লিতে? কোথায় আছেন এমপি আনার

ভারতে চিকিৎসার জন্য গিয়ে নিখোঁজ ঝিনাইদহের এমপি আনোয়ারুল আজিম আনারের খোঁজ করতে গিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তার মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করেছে। তারা জানতে পেরেছে কলকাতায় বন্ধুর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তার মোবাইলের লোকেশন একবার পাওয়া গিয়েছিল সেখানকার নিউমার্কেট এলাকায়। এরপর ১৭ মে তার ফোন কিছুক্ষণের জন্য সচল ছিল বিহারের কোনো জায়গায়। আবার তিনি তার বন্ধু গোপাল বিশ্বাসকে হোয়াটসঅ্যাপে জানিয়েছেন তিনি দিল্লিতে পৌঁছেছেন। 

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে এই তথ্য পেয়েছে কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-দূতাবাস কর্তৃপক্ষ। উপ-দূতাবাসের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেস সচিব রঞ্জন সেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সংসদ সদস্যের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের শনিবার জানানো হয়। তারপরই আমরা ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারা খোঁজখবর করছেন এমনটাই আমাদের জানানো হয়েছে।

কলকাতার উত্তর শহরতলী বরাহনগর এলাকার সিঁথিতে গোপাল বিশ্বাস নামের এক বন্ধুর বাড়িতে উঠেছিলেন এমপি আনার। সেই গোপাল বিশ্বাস পুলিশের কাছে নিখোঁজ ডায়েরি করেছেন। গোপাল বিশ্বাস জানিয়েছেন, ১৩ মে তার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যে ভাড়া করা গাড়িতে উঠেছিলেন আনার, সেটির চালকের সন্ধান পেয়েছে স্থানীয় পুলিশ। ওই চালক পুলিশকে জানিয়েছেন এমপির সঙ্গে একজন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। এদের দুজনকে তিনি কলকাতা সংলগ্ন নিউ টাউন এলাকায় ছেড়ে দেন।

এরপর ১৫ মে সকালে গোপাল বিশ্বাস আজিমের কাছ থেকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পান যে তিনি দিল্লি পৌঁছেছেন এবং তার সঙ্গে ভিআইপিরা আছেন, তাই তাকে যেন ফোন না করা হয়। এর দুদিন পরে, ১৭ মে গোপাল বিশ্বাসকে আজিমের মেয়ে ফোন করে জানান যে তার বাবার সঙ্গে কিছুতেই তারা যোগাযোগ করতে পারছেন না। পরের দিন, ১৮ মে বরাহনগর থানায় যান তিনি।

গোপাল বিশ্বাস বলেন, সেখানে আমাকে সারাদিন বসিয়ে রাখা হয়। পুলিশ আমার বাড়িতে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে নিয়ে আসে। সেসব খতিয়ে দেখে আমার নিখোঁজ ডায়েরি নেওয়া হয়। তারা ওই ভাড়ার গাড়িটির নম্বরও পেয়ে যায়। চালকের সঙ্গে কথা বলেছে। নিশ্চয়ই পুলিশ খোঁজখবর করছে, আমাকে তো আর সব তথ্য জানাচ্ছে না।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশের উপ-দূতাবাস যে তথ্য পেয়েছে, তা অনুযায়ী ১৭ মে এমপি আজিমের মোবাইল নম্বরটি কিছুক্ষণের জন্য বিহারে অবস্থান করছিল। আবার এটাও জানতে পেরেছে তারা যে মোবাইল সেট থেকে সিম কার্ডটি আলাদা করে রাখার কারণে সঠিক অবস্থান খুঁজে পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে, ঢাকায় ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হারুন অর রশীদ সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, তার দুটি বাংলাদেশি নম্বর আছে আর একটি ভারতের নম্বর। আমরা ভারতীয় পুলিশের সহযোগিতায় তার ভারতীয় নম্বরটি দেখলাম মুজফ্‌ফরাবাদ অর্থাৎ বিহারের দিকে।

ডিবির প্রধান জানিয়েছেন, আমরা বিষয়টার খোঁজখবর রাখছি। ভারতের যারা বাংলাদেশে আছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলছি, আবার ভারতীয় পুলিশের সঙ্গেও কথা বলছি। উনার পরিবারও যোগাযোগ রাখছে আমাদের সঙ্গে। তার মেয়ে আমাদের কাছে এসেছিলেন।

ডিবি কার্যালয়ে বাবার নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ জমা দিয়েছেন সংসদ সদস্যের কন্যা মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। তিনি সাংবাদিকদের জানান যে তিনি নিজেই ভারতে যাচ্ছেন বাবার খোঁজখবর করতে।