পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক না হলেও এক দিনমজুরের নামে ছয় মাসের বকেয়া বিল দেখিয়ে তা পরিশোধের নোটিস দিয়েছে কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভূরুঙ্গামারী জোনাল অফিস। শুধু তাই নয়, নোটিস পাওয়ার পর অতিসত্বর বিল পরিশোধ না করলে ওই দিনমজুরের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। পল্লী বিদ্যুতের এমন ভুতুড়ে কাণ্ডে বিপাকে পড়েছেন ভুক্তভোগী দিনমজুরসহ নোটিসপ্রাপ্ত একাধিক ব্যক্তি।
জানা যায়, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পাইকেরছড়া গ্রামের সিরাজুল হকের ছেলে হবির আলী। পেশায় তিনি দিনমজুর। বাড়িতে তার নামে কোনো বিদ্যুৎসংযোগ বা মিটার না থাকলেও হবির আলীর নামে ছয় মাসের বকেয়া বাবদ ১ হাজার ৯৫১ টাকা দেখিয়ে তা পরিশোধের নোটিস দিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ ভূরুঙ্গামারী জোনাল অফিস। একই এলাকার খোকন মিয়ার নামে কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকলেও গ্রাহকের সংযোগ হিসাবে ৮ হাজার ৮৪৬ টাকা বকেয়া দেখানো হয়েছে। ভুক্তভোগী খোকন বলেন, ‘এত টাকা বিল দেখে আমার মাথা ঘুরে গেছে। আমি গরিব মানুষ। বিদ্যুৎ অফিসে গিয়েছিলাম। কোনো সমাধান হয়নি।’
গ্রাহকদের দেওয়া নোটিসের কপিতে বলা হয়েছে, ‘রেকর্ডপত্র অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৯ অক্টোবর বকেয়ার কারণে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এ অবস্থায় অত্র নোটিস প্রাপ্তির পর অতিসত্বর বকেয়া পরিশোধ ও পুনঃসংযোগ গ্রহণ করার জন্য বলা হইল। অন্যথায় বকেয়া আদায়ের জন্য বিদ্যুৎ আইন ও পিডিআর অ্যাক্ট অনুযায়ী, আপনার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে।’
ভূরুঙ্গামারী থানার ওসিকে মামলা করার জন্য এই নোটিসের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আমিনুল ইসলাম, ফয়েজউদ্দিন, শিপন মিয়া, আমিনুর রহমান, রজব আলী ও আজাদুল হকের নামে বকেয়া পরিশোধের নোটিস দেওয়া হয়েছে। অথচ তাদের নামে কোনো বকেয়া নেই বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
এ ব্যাপারে নোটিস পৌঁছে দেওয়া মিটার রিডার রায়হান মিয়া বলেন, ‘অফিস থেকে ওই নোটিসগুলো সরবরাহ করে গ্রাহক বরাবর পৌঁছে দিতে বলা হয়েছে। আমি শুধু পেঁৗছে দিয়েছি। যাদের নামে সংযোগ ছিল না বলে দাবি করা হয়েছে, তাদের অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করতে বলেছি।’
পল্লী বিদ্যুতের ভূরুঙ্গামারী জোনাল অফিসের ডিজিএম মিজানুর রহমান বলেন, ‘ওই ব্যক্তিরা আমার কাছে এসেছিলেন। আমি বিষয়টি বিলিং সহকারীকে যাচাই করতে বলেছি। নোটিসপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নামে যদি সংযোগ না থাকে, তাহলে এমন নোটিস জারিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’