পায়ুপথে ব্রাশ ঢুকিয়ে কিশোরকে নির্যাতন

ফেনীর ছাগলনাইয়ায় এক কিশোরের পায়ুপথে টয়লেট পরিষ্কারের ব্রাশ ঢুকিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। তানভীর আহমেদ নয়ন (১৩) নামের ওই কিশোরকে গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার তিন দিন পরও চেতনা ফেরেনি তার। গত শনিবার দুপুরে ছাগলনাইয়া উপজেলা সদরের আহমেদ শপিং সেন্টারে ওই ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় গতকাল সোমবার কিশোরের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়েছে। নির্যাতনের শিকার তানভীর আহমেদ নয়ন ছাগলনাইয়া বাজারের একটি দোকানের কর্মচারী ও উত্তর যশপুর গ্রামের বাসিন্দা। দোকানটির মালিক আবু আহমেদ মজুমদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

নির্যাতনের শিকার কিশোরের বড় ভাই আবদুর রহমান জানান, তার ভাই নয়ন ছাগলনাইয়া বাজারের একটি দোকানে মাসিক বেতনে কাজ করে। শনিবার দুপুরে বাজারের উত্তর পাশের একটি মসজিদে নামাজ আদায় করতে যায়। নামাজ শেষে ফেরার পথে মাঝ বয়সের অপরিচিত এক লোক তাকে ডাক দেয়। বলেন, দোতলায় একটি বস্তা মাথায় তুলতে তার ভাই যেন সহযোগিতা করে। নয়ন সরল মনে উপকার করার মানসিকতা থেকে আহমেদ শপিং সেন্টারের দোতলায় ওঠে। এ সময় পেছন থেকে মাঝ বয়সী আরও এক অপরিচিত ব্যক্তি ওঠেন।

নির্যাতনের শিকার কিশোরের বরাত দিয়ে তার ভাই আরও বলেন, ওই দুই ব্যক্তি নয়নকে মারধর করে তিনতলায় নিয়ে যায়। সেখানে একটি টয়লেটে ঢুকিয়ে তার দুই হাত ও মুখ বেঁধে নগ্ন করে। পরে নয়নের পায়ুপথে টয়লেট পরিষ্কারের প্লাস্টিকের ব্রাশ ঢুকিয়ে দেয়। এতে মূর্ছা যায় সে। পুরো টয়লেট রক্তে ভেসে যায়। পরে ওই দুই ব্যক্তি টয়লেটের দরজার হুক বাইরে থেকে লাগিয়ে চলে যায়। পরে নয়ন প্রায় ঘণ্টাখানেক চেষ্টার পর হাতের বাঁধন খুলতে পারে। অন্যদিকে তার দোকানের মালিক মোবাইল ফোনে বারবার কল করলেও হাত বাঁধা থাকায় রিসিভ করতে পারেনি। বাঁধন খোলার পর দোকান মালিকের কল রিসিভ করে ঘটনা জানায়। পরে দোকান মালিক টয়লেট থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে নয়নকে ছাগলনাইয়া হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম পাঠানো হয়।

ছাগলনাইয়া থানার ওসি হাসান ইমাম জানান, তিনি ঘটনা শুনেছেন। নির্যাতনের শিকার কিশোরের মা গতকাল বিকেলে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ ঘটনায় দোকান মালিক আবু আহমেদ মজুমদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।