‘সংখ্যালঘুর অধিকার রক্ষায় সরকারের কর্মসূচি পর্যাপ্ত নয়’

দেশে সংখ্যালঘুর অধিকার রক্ষায় সরকারের কর্মসূচি পর্যাপ্ত মনে হচ্ছে না। তাই তাদের সুরক্ষায় অবিলম্বে পৃথক আইন প্রণয়নের পাশাপাশি জাতীয় কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সদ্য বিদায়ী সভাপতি শাহরিয়ার কবির।

মঙ্গলবার (২১ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।

গত ১৮ মে সংগঠনের অষ্টম জাতীয় সম্মেলনে নবনির্বাচিত ৯১ সদস্যের কার্যনির্বাহী পরিষদ এবং ৫৫ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদের আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৯১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটির সদস্যদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে দুটি কমিটির নাম ঘোষণা করেন শাহরিয়ার কবির ও কাজী মুকুল।

নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতির দায়িত্বে এসেছেন শহিদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী। আর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে এসেছেন আগের কমিটির আইসিটি সেলের প্রধান শহীদ সন্তান আসিফ মুনীর তন্ময়।

নতুন কমিটিতে নির্বাহী সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল। সাতজন সহ-সভাপতির মধ্যে রয়েছেন তিন শহীদ সন্তান ড. মেঘনা গুহ ঠাকুরতা, তানভীর হায়দার চৌধুরী শোভন, শমী কায়সার। সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন সমাজকর্মী কেশব রঞ্জন সরকার।  

কমিটির উপদেষ্টা মুনতাসীর মামুন বলেন, নির্মূল কমিটিকে পরিচালনা করতে গিয়ে পদে পদে প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছি। উচ্চপর্যায় থেকে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে আমাদের। আমাদের পরিত্যাজ্য করার একটা সিন্ডিকেট রয়েছে। অথচ সরকার যখন বিপদে পড়ে, তখন সরকারের পক্ষ থেকে শাহরিয়ার কবিরকে অনুরোধ জানায় তাদের পক্ষে যেন বিবৃতি দেয়।

সাম্প্রদায়িকতা ও জাতিগত বিদ্বেষের বিস্তার ঘটছে উল্লেখ করে নবনির্বাচিত কমিটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এ নিয়ে সক্রিয় হবে বলে জানান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারুফ রসূল।

নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আসিফ মুনীর তন্ময় জানান, নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আলোকিত করতে একাত্তরের ১১ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর নামে তরুণ বিগ্রেড গঠন করা হয়েছে। নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পাঠদান কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। একাত্তরের মুক্তিসংগ্রামের ঐতিহাসিক আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র এবং নথিপত্রগুলোকে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করার দাবি নিয়ে কাজ করবে নব-নির্বাচিত কেন্দ্রীয় পরিষদ।
  
৫৫ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কমিটির সভাপতির পদে রয়েছেন শাহরিয়ার কবির। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, বিচারপতি শামসুল হুদা, বিচারপতি মমতাজউদ্দিন আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক অনুপম সেন, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাট্যজন নাসির উদ্দীন ইউসুফ, সংসদ সদস্য ও শহিদ পরিবারের সন্তান মানবাধিকারকর্মী আরমা দত্তসহ আরও অনেকে।