তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী জাতীয় সংসদে তোলার আশ্বাস দিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানা। তিনি বলেছেন, ‘দ্রুতই আইনের সংশোধনীর খসড়া পাসের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবনের শহীদ ডা. শামসুল আলম খান সভাকক্ষে এক সেমিনারে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এই আশ্বাস দেন।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ) যৌথভাবে ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করতে বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, ২০১৭ সালে প্রকাশিত গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করে। তাদের ৪৬ শতাংশ পুরুষ ও ২৫ শতাংশ নারী। ব্যবহৃত তামাকের মধ্যে ১৮ শতাংশ ধূমপান ও ২১ শতাংশ ধোঁয়াবিহীন তামাক। এ ছাড়া ধূমপায়ীদের কারণে আরও ৩ কোটি ৮৪ লাখ মানুষ কর্মক্ষেত্রে ও পাবলিক প্লেসে ও পরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়।
সেমিনারে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল বলেন, আইনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তামাক কোম্পানিগুলো সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির আড়ালে তামাকদ্রব্যের ওপর তরুণদের আকৃষ্ট করছে। তামাক কোম্পানির এই কর্মসূচি নিষিদ্ধ করে বিদ্যমান তামাক আইন সংশোধন করা প্রয়োজন।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. খন্দকার আবদুল আউয়াল রিজভী বলেন, তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের কারণে দেশে অসংক্রামক রোগ, যেমন হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, ক্যানসার ও শ্বাসতন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি রোগ ইত্যাদি বাড়ছে। বর্তমানে দেশে মৃত্যুর ৬৭ শতাংশই অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটছে। এই অসংক্রামক রোগ সৃষ্টির অন্যতম কারণ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার।