ছেলের চুরির অপবাদে মাকে নির্যাতন, পরের দিন মরদেহ উদ্ধার  

ঠাকুরগাঁওয়ে সন্তানের চুরির অপবাদ তুলে আদিবাসী নারী শ্রমিককে রাতভর  নির্যাতন করে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। বুধবার (২২ মে) সকালে শহরের পরিষদ পাড়ায় লিচু বাগানের গাছ থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত দায়ন ঋষি (৪০) পরিষদ পাড়ার বিশু ঋষির স্ত্রী।

 স্বজনরা জানায়, গত সোমবার রাতে শহরের পরিষদ পাড়ার আমজাদ হোসেন লিটন তার বাড়ি থেকে তিনলাখ টাকা চুরি হয়। এমন অপবাদ দিয়ে পরদিন মঙ্গলবার সকালে একই পাড়ার দায়ন ঋষির ছেলে রাজন ঋষিকে ধরে নিয়ে আসে আমজাদের লোকজন। এরপর পার্শ্ববর্তী বড়বাড়ি এলাকায় নিয়ে শিশু রাজনকে গাছের সাথে ঝুঁলিয়ে টাকা চুরির অপবাদে মারধরসহ শারিরীক নির্যাতন করে। বেধরক নির্যাতন সইতে না পেরে রাজনের কাছ থেকে চুরি করার স্বীকারোক্তি নেয়। পরে রাজনের মা দায়ন ঋষিকে তুলে নিয়ে আসে আমজাদের লোকজন। এরপর রাতে আর বাড়ি ফেরেনি আদিবাসী সম্প্রদায়ের শ্রমিক দায়ন ঋষি। বুধবার সকালে স্থানীয়রা একটি লিচু বাগানে দায়নের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। 

এ ব্যাপারে রাজন ঋষি বলেন, টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে প্রতিবেশী আমজাদ হোসেনের লোকজন তাকে গাছের সাথে ঝুঁলিয়ে বেধরক পিটিয়েছে। টাকা চুরির স্বীকারোক্তি নিতে তার উপর অমানবিক নির্যাতন করা হয়। পরে তার মাকে তুলে এনে নির্যাতন চালিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। 

এ ঘটনার পর দুপুরে পরিষদ পড়ার আদিবাসীরা সদর থানা ঘেরাও করে প্রতিবাদ জানায় এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি করে। কিন্তু অভিযুক্ত আমজাদ হোসেন লিটন তার বাড়িতে তালা ঝুঁলিয়ে পরিজন নিয়ে সটকে পড়েছেন এবং তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

আদিবাসী নেত্রী জেসপিনা জানান, নিহত দায়েন ঋষির শরীরের বেশ কয়েকটি স্থানে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। তিনি এটিকে পরিকল্পত হত্যাকাণ্ড দাবি করে দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবি করেছেন। 

স্থানীয় পৌরসভার কাউন্সিলর দোলন জানান, বাড়িতে চুরি হয়েছে এটা শুনে আমজাদ হোসেনকে আইনী প্রক্রিয়ায় যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। 

ঠাকুরগাঁও জেলা আদিবাসী পরিষদের সভাপতি জাকোব খালকো বলেন, আদিবাসীরা প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। দায়েন ঋষিকে হত্যার পর গাছের সাথে ঝুঁলিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্ত শাস্তি দাবি করেছেন।  

 

সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিথুন সরকার জানান, এটি হত্যা না আত্মহত্যা তদন্ত করা হচ্ছে। যদি কেউ এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে মন্তব্য করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।