সেতুমন্ত্রী বললেন

বন্ধু রাষ্ট্রে গিয়ে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিনের তো জীবন নাশ হয়নি

সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বন্ধু রাষ্ট্রে গিয়ে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিনের তো জীবন নাশ হয়নি। বন্ধুরাষ্ট্র নিয়ে কথায় কথায় দোষারোপের রাজনীতি বন্ধ করুন।

আজ বুধবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক উপকমিটি আয়োজিত ‘সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ’ শিরোনামে আয়োজিত সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, গত দুই তিন দিন ধরে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমকে নিয়ে একটা ধোঁয়াশা ছিল। তার পরিবারসহ কেউ জানে না। চিকিৎসা জন্য তিনি ভারতে গেছেন। ভারত আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র। আমাদের একজন এমপি যখন চিকিৎসার জন্য যান, তিনি কিন্তু ভারত সরকারকে জানিয়ে যান না। সেখানকার যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে গেলে নিরাপত্তা ব্যাপারটি তখনই দেখা হয়।

তিনি বলেন, ফখরুল সাহেব বলেছেন- বন্ধু রাষ্ট্রে গিয়ে নিরাপত্তা নাই। আপনাদের যদি শত্রু রাষ্ট্র হয়, সেখানে সালাহ উদ্দিন (বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য) এত দিন নিরাপদে কেমন করে আছেন। তাকে তো কেউ হত্যা করেনি। তার জীবনে তো নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়নি, জীবনের কোনো হানি ঘটেনি। এই ধরনের অপবাদ কেন দিচ্ছেন বন্ধু রাষ্ট্রকে?

বাংলাদেশের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর নিজস্ব নিয়ম কানুন রয়েছে। সেখানে কেউ অপরাধী হলে তাদের ছাড় দেওয়ার মতো লোক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা নন।

গণহত্যার সমর্থকদের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই বলে জানিয়ে তিনি বলেন, যারা ফিলিস্তিনে দিনের পর দিন গণহত্যায় সমর্থন দিয়ে যায়, শিশুদের হত্যা করে তারা কাকে নিষেধাজ্ঞা দিল না দিল তা নিয়ে মাথাব্যথা নেই সরকারের।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সাড়ে ৩৫ হাজার মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করেছে ইসরায়েল। জাতিসংঘের যুদ্ধবিরতি রেজ্যুলেশন উপেক্ষা করে হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের ছাত্ররা এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করলে সে দেশের পুলিশ তাদের ওপর আক্রমণ করে। নারী শিক্ষার্থীদের রশি দিয়ে পেছন থেকে হাত বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে। যারা ইসরায়েলকে সমর্থন করে, নেতা নিয়াহুকে সমর্থন করে, এই যদি তাদের গণতন্ত্র-মানবাধিকার হয়, তবে তাদের ভিসা নীতি বা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আমাদের কোনো মাথা ব্যথা নেই।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান মঞ্চসারথি আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় সাবেক সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এবং সংসদ সদস্য চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদও বক্তব্য রাখেন।