সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য (এমপি) এমএ মান্নানের ছেলে সাদাত মান্নান অভি।
ইতোমধ্যে ছেলের পক্ষ নিয়ে নির্বাচনী এলাকায় এসে মাঠ পর্যায়ে ভোট চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে।
এ অভিযোগ করেন অপর প্রার্থী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী আবুল কালাম। বৃহস্পতিবার (২৩ মে) কালাম দেশ রুপান্তরকে বলেন, শান্তিগঞ্জে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি করছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। উনার ছেলের পক্ষে নিজে প্রচারণা চালাচ্ছেন। আমার কর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার (২১ মে) সুনামগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ আল মুজাহিদের কাছে অভিযোগ দিয়েছি।
অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এমএ মান্নান গত এক সপ্তাহ ধরে তার নিজ বাড়িতে অবস্থান করে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন।
তিনি তার ছেলের পক্ষে সরকারের সার ও বীজ ডিলারদের নিয়ে ও উপজেলার ৮ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়ে নিজ বাড়িতে সভায় মিলিত হয়েছেন, যা সামাজিকমাধ্যমে প্রচার হয়েছে। সেই সাথে নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন এমন শিক্ষক ও সরকারি কর্মকর্তাদের বাড়িতে ডেকে এনে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। সেই সাথে নিজ গ্রামের একজন চেয়ারম্যান প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে বসিয়ে দিয়ে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে তিনি বাধা সৃষ্টি করেছেন। এতে এই উপজেলার সাধারণ মানুষ নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের ওপর থেকে আস্থা হারাচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কালাম বলেন, এই উপজেলার মানুষ একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চায়। কিন্তু দলীয় কিছু সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য এমএ মান্নান ছেলের পক্ষ নিয়ে ভোট চাচ্ছেন। আশা করি আমার অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নিবে।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী সাদাত মান্নান অভি দেশ রুপান্তরকে বলেন, আসলে আমার বাবার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার বাবা নির্বাচনী মাঠে নেই। বরং আমি আমার একক সিদ্ধান্ত ও সাধারণ মানুষের অনুরোধে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি।
উল্লেখ্য, এমএ মান্নান সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসন থেকে টানা চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।