চট্টগাম শিক্ষাবোর্ডের সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও বর্তমানে সচিব প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র নাথের বিরুদ্ধে এক মাস আগে তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যক্রম শুরু করেনি তদন্ত কমিটি। আর তাই দ্রুত তদন্ত করার জন্য চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
আজ সকালে বাংলাদেশ মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযোদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ডা. মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি টিম শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যানের সাথে সাক্ষাৎ করেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সচিবের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য দুই মাস আগে মন্ত্রী পরিষদ সচিব থেকে নির্দেশনা দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করেনি তদন্ত কমিটি। আর তাই দ্রুত তদন্তের দাবি জানানো হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধকালীন এফ এফ কমান্ডার নুরুদ্দিন, এফ এফ রাজা মিয়া, মোজাফফর আহমদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম মহাসচিব মহসিন কাজী প্রমুখ।
এর আগে গত ১৮ এপ্রিল তদন্ত কমিটি গঠন ও ১ এপ্রিল মন্ত্রী পরিষদ সচিবের কার্যালয় থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল দুই সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে। ফলাফল জলিয়াতির অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছিল। কমিটি আগামী সাত কার্য দিবসের মধ্যে দুই প্রস্থ প্রতিবেদন জমা দেবে। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মনিটরিং এন্ড ইভালুয়েশান উইং) প্রফেসর মো. আমির হোসেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (এইচআরএম) আশেকুল হক ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ইএমআইএস সেলের খন্দকার আজিজুর রহমান। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি নেই।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও বর্তমানে সচিব দায়িত্বে থাকা প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র নাথের ছেলে নক্ষত্র দেবনাথ ২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। শুধু বাংলা বিষয় ছাড়া সব বিষয়ে সে জিপিএ-৫ পায়। কিন্তু চতুর্থ বিষয়ে জিপিএ-৫ পাওয়ায় সামগ্রিক ফলাফলে সে জিপিএ-৫ পেয়েছিল। কিন্তু বাংলায় জিপিএ-৫ না পাওয়ায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে বোর্ডের নিয়মানুযায়ী পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে গেলে দেখতে পান কে বা কারা আগে থেকে সব বিষয়ের জন্য আবেদন করে রেখেছেন।
এতে নিজের সন্তানের জন্য শঙ্কিত হয়ে ছেলের পক্ষে তার মা বনশ্রী নাথ পাঁচলাইশ থানায় গত ৪ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে জিডি করেন। সেই জিডিতে কে পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছেন তা বের করার আবেদন জানানো হয়। পাঁচলাইশ থানা পুলিশ তদন্ত করে দেখতে পায় পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনে রেফারেন্স মোবাইল নম্বর দেয়া হয়েছে বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ আবদুল আলীমের মোবাইল নম্বর। এ ঘটনায় প্রফেসর আবদুল আলীমকে পুলিশ ডেকেছিল।
তিনি তখন বলেছিলেন,‘কে বা কারা আমার মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে আবেদন করেছেন আমি জানি না।’ উপরন্তু তিনি এ ঘটনায় প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র নাথকে দায়ী করে পাল্টা আরেকটি জিডি করেছিলেন কোতোয়ালী থানায়। পরবর্তীতে পুলিশ জিডির রিপোর্ট সাবমিট করার পর সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে কাউন্টার টেরিজম ইউনিটে মামলা দায়ের করেন বনশ্রী নাথ। মামলায় প্রফেসর আবদুল আলিম ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলীকে আসামি করা হয়।