সরকার কৃষি কাজে লাঙলের ব্যবহার নিশ্চিত করতে বড় ধরনের যানবাহন পাওয়ার টিলার বা ট্রাক্টর গুলো আমদানি করছে। অথচ কিছু প্রভাবশালী, অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধ পথে রোজগার করতে এগুলো আমদানি করে পারমিট বিহীন সড়কে ব্যবহার করছে। এতে রাত পোহালেই ভোগান্তিতে পড়ছে মানুষ। জীবন অতিষ্ঠ, জীবনের হুমকি, সড়কের কোটি টাকার ক্ষতি, পরিবেশ দূষণ ইত্যাদি ধংস করছে বেপরোয়া দানব অবৈধ ট্রাক্টরগুলো। জীবনের তাগিদে বের হয়ে খুন হচ্ছে মানুষ। নেই নিরাপত্তা বেষ্টনী, চলছে হরহামেশে...থামবে কোথায় কে জানে..। মাত্র ১২ থেকে ১৬ বছরের শিশু ড্রাইভার দিয়ে বেপরোয়া দানবগুলো রাস্তায় চলছে, অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, লক্ষ্মীপুরের রামগতি-কমলনগর উপজেলায় অবাধে চলছে মাটি টানা, ইট টানা, গাছের গুড়ি টানা, পরিবহন কাজে ব্যবহার হচ্ছে অবৈধ দানব ট্রাক্টরগুলো। এদের কোনো রোড পারমিট, রাষ্ট্রীয় কাগজপত্র নেই। শুধু টাকায় প্রভাবশালী মহল কিনে এনে রাস্তায় শিশু ড্রাইভার দিয়ে ছেড়ে দিচ্ছে। এদের গতিসীমা নেই, এরা কোথায় চলতে পারবে তার ঠিকানা নেই। এরাই সড়কের রাজা। দানবগুলো সামনে চললে পেছনে দেখে না। চলছে তো চলছে।
উপজেলার তোরাবগন্জ, চর কাদিরা, হাজির হাট ইউপিতে প্রায় ৩০টি ইটের ভাটা রয়েছে। অবৈধ ট্রাক্টরে কাঁচা সড়কগুলো করুণ দশা দেখা যাচ্ছে। এরা ফসলের মাটি নিয়ে যাচ্ছে ইটের ভাটায়। এদের কারণে অতিষ্ঠ মানুষ ও জনজীবন। উপজেলার রামগতিতে প্রায় ৪০টি ইটের ভাটা রয়েছে। প্রতিটি ইউপির পাকা এবং কাঁচা মাটির সড়কের চেহারা দেখা যাচ্ছে না। প্রতিটি ইটের ভাটায় প্রায় ১০টা করে অবৈধ দানব চলছে। বর্ষায় কাঁচা সড়কের গর্তে পানি জমে কাদা তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় পথচারী জানান, ট্রাক্টরগুলো প্রতিদিন রাস্তায় জোরে জোরে চলছে। মাটি, ইট, টেনে সড়ক নষ্ট করছে। পরিবেশ নষ্ট করছে। দেখার কেউ নেই। পাকা সড়ক আর কাঁচা সড়ক তাদের দখলে। এগুলোর অত্যাচারে মানুষ নিরুপায়, কিছু বলার সাধ্য থাকলেও ভয়ে পারছে না। দানবগুলো যারা নিয়ন্ত্রণ করে তাদের বেশির ভাগই প্রভাবশালী, ইটভাটার মালিক, মাটি খেকোর জিম্মাদার। তাদের পাওয়া অনেক ওপরে, মানুষ হত্যা মাত্র কিছু টাকায় মীমাংসা করে।
তিনি আরও জানান, ইটভাটার মালিকরা তাদের সুবিধায় শিশু ড্রাইভার দিয়ে ট্রাক্টর দূর থেকে দূরান্তে মাটি, ইট, গাছের গুঁড়ি টানাচ্ছে। কিছুদিন পর পর হচ্ছে দুর্ঘটনা, পড়ে যাচ্ছে ডোবায়, খাল ও পুকুরে। শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত হত্যা করছে এরা। মাটির কাঁচা সড়কগুলোর বেহাল দশা, জীর্ণ গ্রামীণ কালভার্ট, ব্রিজগুলো। এরা মাটি, ইট, গাছের গুঁড়ি নিয়ে যে সড়কে বের হয়। সেগুলোর অবস্থা নেই বললেই চলে। এরা যাতায়াতের সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মুশকিল। অতিরিক্ত শব্দে পরিবেশ দূষণে মারাত্মক ক্ষতি সাধন করছে। শিক্ষার্থীরা স্কুল, মাদরাসা ও কলেজে যেতে পারছে না। প্রতিটি মুহূর্তে বিপদ নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে।
স্কুলছাত্র জানায়, রাস্তা দিয়ে ট্রাক্টরগুলো জোরে চলে। মাটি, ইট, বালু টানে। এদের কারণে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা চলতে হয়। এরা খুবই বেপরোয়া গতিতে চলে। মাঝে-মধ্যে স্কুলে যেতে খুব ভয় লাগে। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।
স্থানীয় শামছুল আলম নিশাদ জানান, অবৈধ ট্রাক্টরগুলো মাটি, ইট, বালি পরিবহন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এদের কারণে রাস্তাগুলো ভেঙে যাচ্ছে। পাশাপাশি ধুলাবালি পরিবেশ নষ্ট করছে। জীবনকে হাতে নিয়ে চলছে হচ্ছে। এদের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। এগুলো শিশু এবং কম বয়সী ড্রাইভার দিয়ে চলছে।
তথ্যসূত্রে জানা যায়, কমলনগরের চর কাদিরায় মো. গিয়াস উদ্দিনের ছেলে মো. সাগর (৭), পাটোয়ারির হাট ইউনিয়নের মো. জাকের মাঝির ছেলে মো. আকতার হোসেন (৭), মো. ইউনুসের ছেলে জিসান হোসেন (৬) দানব ট্রাক্টরের চাপায় নিহত হয়।
কমলনগর উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা (প্রকৌশলী) সোহেল আনোয়ার দেশ রূপান্তরকে জানান, পাওয়ার টিলার বা ট্রাক্টরে যাতায়াতে প্রতি বছর সরকারি বরাদ্দের কোটি কোটি টাকা ধংস হচ্ছে। এদের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। এরা পাকা-কাঁচা সড়কগুলো ভেঙে চুরমার করে ফেলছে। এগুলোর অবাধ বিচরণ বন্ধ করলে সরকারের কোটি কোটি টাকা বেচে যাবে।
রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছৈয়দ আমজাদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, ট্রাক্টরগুলো অবাধ যাতায়াত বন্ধ করতে সবসময় অভিযান চলছে। মাটি কাটা ও টানাসহ ট্রাক্টরগুলো আটকিয়ে মোটা অংকের জরিমানা ও জেল দিচ্ছি। অভিযান চলমান থাকছে।