নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের মেয়াদ গত আট মাস আগেই চলে গেছে। এতে কোনো ধরনের অগ্নিকা- হলে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হওয়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ভবনটি তিনতলা বিশিষ্ট। এখানে জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক ও বিভিন্ন জুডিশিয়াল আদালতসহ গুরুত্বপূর্ণ সব প্রশাসনিক দপ্তর রয়েছে। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের পাশেই নির্বাচন অফিস ও সরকারি জমিজমার রেকর্ড রুমসহ বেশ কয়েকটি শাখা রয়েছে। এসব দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কক্ষে ব্যবহার করা হয় এয়ার কন্ডিশন (এসি)।
যেকোনো সময় এগুলো ওভারলোড অথবা শর্টসার্কিটে আগুন ধরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজের জন্য জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আসেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সর্বশেষ ২০২২ সালের ২৪ আগস্ট পাঁচ কেজি ওজনের ফায়ার এক্সটিংগুইশার ও পাঁচ কেজির কার্বণ ডাই অক্সাইড রিফিল করা হয়। এগুলোর মেয়াদ ২০২৩ সালে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত দেওয়া হয়।
মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার আট মাস পেরিয়ে গেলেও এগুলো পরিবর্তন করেননি জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়রা বলেন, আমরা বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজের জন্য জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আসি। এ অফিসগুলোতে পুরো জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও নথি সংরক্ষণ করা থাকে। এখানে কোনো অগ্নিদুর্ঘটনা হলে যদি সময়মতো ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয় তাহলে খুব বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অগ্নিনির্বাপণের রাসায়নিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এম জে ট্রেড ফায়ার ফাইটিং ইকুইপমেন্টের স্বত্বাধিকারী জামাল মন্ডল বলেন, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর আমি জেলা প্রশাসন কতৃর্ পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম।
পরে তারা আমাকে বলল, আমাদের এ বছর ফান্ড নেই তাই আমরা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রিফিল করতে পারছি না। নারায়ণগঞ্জ জেলা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক ফকর উদ্দিন আহমেদ বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ। মেয়াদোত্তীর্ণ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র কাজ করতেও পারে নাও করতে পারে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নাজির কামরুল ইসলাম বলেন, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলোর কাজ পিডব্লিউডি করে থাকে। আমরা পিডব্লিউডি-এর কাছে চিঠি দিয়েছি। আশা করছি এক সপ্তাহের মধ্যেই অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলো রিফিল করা হবে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, বিষয়টি জানতাম না।