উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় "রিমাল" উত্তর দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে একই এলাকায় প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। যার ফলে পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ০৭ (সাত) নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ১০ (দশ) নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।
এ ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের কাছাকাছি সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ। তাই পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় অবস্থানরত সকল আবাসিক হোটেলকে পর্যটক ও স্থানীয় ঝুঁকিপূর্ণ সাধারণ মানুষের আশ্রয়স্থল হিসাবে খুলে দেয়া হয়েছে।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল এমএ মোতালেব শরীফ।
তিনি সাংবাদিকদের জানান, প্রতি বছরই কমবেশি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে উপকূলীয় এই এলাকায়। তাই সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় আমরা ঝুঁকিপূর্ণ সময়টাতে বেশীরভাগ হোটেল-মোটেলগুলোকে খুলে দেয়ার ব্যবস্থা করি। তাই এই ঘূর্ণিঝড় রিমালেও সেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি বিশেষ করে রাতে পরিস্থিতি খারাপ হলে সবাই হোটেলগুলোতে আশ্রয় নিবে।
আবহাওয়া অফিস পটুয়াখালী কার্যালয় সূত্র জানায়, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৩৩০ কি.মি. দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৯৫ কি.মি. দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে সন্ধ্যা বা মধ্যরাত নাগাদ মোংলার নিকট দিয়ে সাগর আইল্যান্ড (পশ্চিমবঙ্গ) খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম করতে পারে। বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রভাগের প্রভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি শুরু হয়েছে।
প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কি.মি. এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কি.মি., যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১২০ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে।
পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী বলেন, প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশ ও বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্যের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীসহ তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ০৮-১২ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ু তাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। এ ছাড়া দমকা ও ঝোড়ো হাওয়া সহ ভারী (৪৪-৮৮ মিমি/২৪ ঘন্টা) থেকে অতি ভারী (২৮৯ মিমি/২৪ ঘণ্টা) বর্ষণ হতে পারে।
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, কুয়াকাটার আশেপাশে যে হোটেলগুলো রয়েছে সেগুলো কর্তৃপক্ষ আশ্রয়কেন্দ্রে রূপান্তর করায় তাঁদেরকে ধন্যবাদ জানাই। বর্তমানে কুয়াকাটায় যে পর্যটক রয়েছে তাদেরকে কোনো ভাবেই সৈকতে নামতে দেয়া হচ্ছে না।