১২ লাখের চাকরি ছেড়ে দেড় লাখে এসইসির কমিশনার তারিকুজ্জামান

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নির্বাহী পরিচালকের পদ থেকে অবসরে গিয়ে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে যোগ দিয়েছিলেন ড. এ টি এম তারিকুজ্জামান। যেখানে মাসে ১০ লাখ টাকার বেশি সম্মানীর পাশাপাশি গাড়িসহ অন্য সুবিধাদি পেতেন তিনি। সেই চাকরি ছেড়ে পুনরায় এসইসিতে ফিরে এসেছেন কমিশনার হিসেবে, মাত্র দেড় লাখ টাকা বেতনে। দেশের স্বার্থে আরও বড় পরিসরে কাজের সুযোগ পেয়ে দেড় লাখ টাকা বেতনেই সন্তুষ্ট তারিকুজ্জামান।

ডিএসইর পদটি প্রশাসনিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষপদ হলেও সম্মান বিবেচনায় এসইসির কমিশনার পদটি অনেক বড়। কাজের পরিসরও বেশ বড়। এসইসির পদটি নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার অন্যতম শীর্ষপদ এবং দায়িত্বও বেশি।

গত ১৯ মে এসইসি থেকে বিদায় নেন কমিশনার অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান। কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে তার চার বছরের চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ শেষ হয় ওই দিন। পরবর্তী সময়ে তার স্থলাভিষিক্ত হন সংস্থাটির সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও ডিএসইর সদ্যবিদায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. তারিকুজ্জামান। পুঁজিবাজার নিয়ে ড. এ টি এম তারিকুজ্জামানের ২৫ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা আছে।

সদ্য যোগদান করা এসইসির কমিশনার ড. এ টি এম তারিকুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ১২ লাখ টাকার চাকরি ছেড়ে দেড় লাখ টাকার চাকরিতে যোগদান করা হয়তো অনেকেই অন্যভাবে নিতে পারেন। কিন্তু এর আগে আমি নিউজিল্যান্ড থেকে যখন এসইসিতে ফিরে আসি, তখনো কিন্তু অনেক মোহ ত্যাগ করেই ফিরে এসেছি এবং সেটা দেশের টানেই। এরপর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কাজ করেছি এবং পরবর্তী সময়ে সরকারের ইচ্ছেতেই কমিশনে যোগ দিয়েছি। আমি দেশকে কিছু দেওয়ার জন্যই এমন সিদ্ধান্তে সম্মতি দিয়েছি। টাকা-পয়সার চেয়ে দেশের স্বার্থে কাজ করা আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমি মনে করি আমার যে অভিজ্ঞতা তাতে দেশের পুঁজিবাজারকে আরও কিছু দেওয়ার আছে। স্মার্ট বাংলাদেশের স্মার্ট ও স্বচ্ছ পুঁজিবাজার গঠনে নিরলসভাবে কাজ করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন তিনি।

প্রসঙ্গত ড. তারিকুজ্জামান গত ১৭ সেপ্টেম্বর ডিএসইতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে যোগদান করেছিলেন। ডিএসইতে প্রায় আট মাস চাকরি করাকালেই সরকার তাকে এসইসির কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়। 

ড. তারিকুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হিসাববিজ্ঞানে এমকম এবং সাউথ ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি (ইউকে ক্যাম্পাস) থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে উপপরিচালক হিসেবে যোগ দেন। এসইসিতে চাকরিরত অবস্থায় ২০০৭-২০০৯ সময়ে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের ডেকিন ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার অব ফিনান্সিয়াল প্লানিং (এমএফপি) ও মাস্টার্স অব প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টিং (এমপিএ) পড়তে অস্টএইড স্কলারশিপ পান। পরে নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটনের ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ফিন্যান্সে পিএইচডি ডিগ্রি শেষ করেন।

ড. এ টি এম তারিকুজ্জামানের দেশে ও বিদেশে শিক্ষকতা পেশায় অভিজ্ঞতা আছে। তিনি বাংলাদেশের সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটি ও এশিয়া-প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটিতে অ্যাডজান্ট লেকচারার হিসেবে কাজ করেছেন। পরে তিনি অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের মোনাশ ইউনিভার্সিটির মোনাশ বিজনেস স্কুল, আরএমআইটি ইউনিভার্সিটি ও নিউজিল্যান্ডের ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলিংটনের স্কুল অব অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড কমার্শিয়াল ল’তে শিক্ষক সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়াও তিনি ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলিংটনের স্কুল অব অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড কমার্শিয়াল ল’তে লেকচারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।