স্কুলে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছে শিশুদের

দেশের ৫-১৬ বছর বয়সী ৪ কোটি শিশুকে বিনামূল্যে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়াচ্ছে সরকার। গত ২৩ মে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি চলবে ২৯ মে পর্যন্ত। এ সময় দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫-১১ বছর বয়সী এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১২-১৬ বছর বয়সী সকল শিশুকে ১ ডোজ করে কৃমিনাশক ওষুধ (মেবেন্ডাজল বা ভারমক্স ৫০০ মি.গ্রা.) ভরা পেটে খাওয়ানো হবে। 

২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে কৃমি নির্মূলের লক্ষ্যে সরকার এই কর্মসূচি নিয়েছে। কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা। এ বছর ২৯তম জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পালিত হচ্ছে।

এ সময় কৃমি নাশক ওষুধ খাওয়ানোর পাশাপাশি শিশুদের কৃমির পূণঃসংক্রমণ রোধে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন করে তোলা হবে। এতে শিশুরা ভবিষ্যতে কৃমিসহ অন্যান্য পরজীবীবাহিত রোগব্যাধি থেকে রক্ষা পাবে। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার প্রাথমিক (সরকারি, বেসরকারি, ফরমাল, নন-ফরমাল স্কুল, মাদ্রাসা, মক্তব) এবং প্রায় ৩৩ হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই কর্মসূচি চলছে। প্রত্যেক রাউন্ডেই সফলতা ৯৫-৯৮ শতাংশ। এই কর্মসূচির ফলে ২০০৫ সালে যেখানে শিশুদের মল পরীক্ষায় কৃমির উপস্থিতি ছিল ৮০ শতাংশ, ২০১৮-১৯ সালের জরিপে তা কমে ৮ শতাংশে নেমে আসে। 

এই কর্মসূচির ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, কৃমি মানুষের অন্ত্রে বসবাসকারী এক ধরনের পরজীবী। এরা মানুষের খাদ্য থেকে পুষ্টি গ্রহণ করে নিজেরা হৃষ্টপুষ্ট হয়। অথচ যার পেটে বাস করে তাকেই অপুষ্টিতে ভোগায়। বিশেষ করে শিশুরা এবং প্রজননক্ষম নারীরা অধিকতর ক্ষতির শিকার হয়। পেটের পীড়া, বদহজম, ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা, রাতকানা রোগ, রক্তস্বল্পতা কৃমি সংক্রমণের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশও বাধাগ্রস্ত হয় কৃমি সংক্রমণের কারণে। তাই ছোট হলেও কৃমিকে তুচ্ছ ভাবা মোটেই উচিৎ হবে না।