ঘূর্ণিঝড় রিমালে মঠবাড়িয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, নিহত ১ 

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রায় শত-শত কাঁচাবাড়ি দোকানপাঠ, ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং গাছপালা ভেঙে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। 

মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে পৌর শহরের প্রাণিসম্পদ হাসপাতালের সামনের সড়কের পাশে এক ভবঘুড়ে (৬৫) ব্যাক্তির মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী। সংবাদ পেয়ে উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা ও সমাজ সেবা কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সকলের ধারণা বৃস্টিতে ভেজায় ও ঠান্ডার কারণে ওই ব্যাক্তির মৃত্যু হয়েছে। 

ভবঘুরে ব্যক্তির কোনো ওয়ারিশ কিংবা স্বজন না থাকার কারণে উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা আবদুল কাইয়ূম স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর মো. সগীর হোসেনকে দাফনের দ্বায়িত্ব দেন বলে এ কাউন্সিলর নিশ্চিত করেছেন।

রবিবার দুপুর থেকে সোমবার সারাদিন ঝোড়ো হাওয়ায় উপজেলার সকল এলাকার শতাধিক কাঁচাবাড়ি ঘর বিধ্বস্থসহ উপড়ে পড়া গাছের নিচে চাপা পড়ে আছে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি। এছাড়া বিভিন্ন এলাকার গ্রামীণ সড়ক ও মহা সড়কে কয়েক হাজার গাছ উপড়ে পড়েছে। 

বলেশ্বর নদে অস্বাভাবিক জোয়ারে ক্ষেতাছিঁড়া,কচুবাড়িয়ার, তুষখালী ও বড় মাছুয়া সহ বিভিন্ন বেড়ি বাঁধ ভেঙে বিভিন্ন অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ফলে এসব এলাকার মৎস্য খামারের অন্তত ৪০টি মাছের ঘের ও ২৫০টি পুকুর ও ধান, পানের বরজ ২/৩ ফুট পানির নিচে তলিয়ে আছে। এছাড়া বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় ২৫ কিলোমটার বেড়িবাঁধ নদের অতি জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ছে। বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুতের খুটি উপড়ে ৩ দিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে।

মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল কাইয়ূম ঘূর্ণিঝড়ে কাঁচাঘর, রবিশস্য, সড়ক ও বেড়িবাঁধের ব্যাপক ক্ষতি হবার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বার, গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় সমাজ সেবকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে যাতে স্ব-উদ্যোগে যোগাযোগের জন্য সড়ক পরিস্কার করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পানিবন্দি এলাকায় পানি ও খাবার পৌঁছানো কার্কক্রম চলামান রয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, আমরা আগে থেকেই প্রায় ২২’শ স্বেচ্ছাসেবী ৭৬টি সাইক্লোন সেল্টারসহ মোট ৯৩ টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছি। নদীর পাড়ের লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হয়েছিলো, যার ফলে আমদের জানমালের কোনো ক্ষতি হয়নি।

এ কর্মকর্তা আরও বলেন, গাছ ও গাছের ডাল ভেঙে বিদ্যুতের তার ছিড়ে গেছে। এগুলো সড়িয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে খিচু সময়ের প্রয়োজন। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায় ফিরিয়ে আনার জন্য।