বরগুনার তালতলীতে ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে টানা বর্ষণ ও অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে প্রায় ৫০-৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানিবন্দি এসব মানুষ খাদ্য সংকটে ভুগছেন। টানা ৭২ ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে পুরো উপজেলা। পল্লিবিদ্যুতের বিভিন্ন সঞ্চালন লাইনের উপরে ঘরবাড়ি ও গাছের ডালপালা উপড়ে পড়লে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ। একদিকে পানিবন্দি অন্যদিকে অন্ধকারে নিমজ্জিত হওয়ার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ।
গত রবিবার (২৬ মে) থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত জোয়ার ও টানা বর্ষণে এসব মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। রবিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত এ উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন আছে। মোবাইল নেটওয়ার্কও বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
পল্লীবিদ্যুৎ তালতলী কার্যলয়ের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার বলেন, পটুয়াখালী পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির অধীনে এ উপজেলায় ২৭ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছেন। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ৩০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে। একাধিক ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছে। ৬ শতাধিক গাছ ভেঙে পড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে। এর ফলে এ উপজেলা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছেন। বিদ্যুৎকর্মীরা এসব লাইন মেরামত ও খুঁটি বসানোর কাজ শুরু করেছেন।
অপরদিকে ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে এ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে টানা বর্ষণের কারণে ৫০ থেকে ৬০ হাজার পানিবন্দি রয়েছেন। এসব এলাকার মানুষের বাড়ি-ঘর তলিয়ে গেছে। প্রায় বাড়িতে রান্না ঘর পরে গেছ। বসত ঘরের তলিয়ে ঘরের ভিতর পানি ঢুকে পড়েছে। হাঁস-মুরগি গবাদি পশু নিয়ে চরম দুরবস্থায় পড়েছে মানুষ। এর কারণে এসব পানিবন্দি মানুষের খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সঙ্কট, মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় রয়েছে।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত আনোয়ারা তুমপা বলেন, এই উপজেলায় ৭২ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদুৎ সংযোগ নেই। অনেক জায়গায় গাছপালা উপড়ে পড়েছে এগুলো গতকাল ভোর থেকে আমি নিজে গিয়ে লোকজন নিয়ে সড়ক ও নৌপথ সচল করতে কাজ করে সফল হয়েছি। ক্ষতির পরিমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।