প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের একজন হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন মার্কো রয়েস। চোটজর্জর ক্যারিয়ারে বড় ট্রফি জিততে না পারার আক্ষেপ আর ফুরোয়নি। আসছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে সেই হতাশা দূর করতে চান বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের এই মিডফিল্ডার। বরুশিয়া মনশেনগ্লাডবাখে তিন বছর খেলে ২০১২ সালে ডর্টমুন্ডে পাড়ি জমান তিনি। সেই থেকে ক্লাবটির মূল দলের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪২৮ ম্যাচ খেলে ১৭০ গোল করেছেন এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার, সঙ্গে করেছেন ১৩১টি অ্যাসিস্ট।
চলতি মৌসুম শেষে ডর্টমুন্ডে ১২ বছরের অধ্যায়ের ইতি টানতে যাচ্ছেন রয়েস। আগামী শনিবার ইউরোপ সেরার শিরোপা লড়াইয়ে দুর্বার রিয়ালকে হারিয়েই দীর্ঘ পথচলার শেষটা রাঙাতে চান ৩৪ বছর বয়সী এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।ডর্টমুন্ডের মূল দলে পা রাখার আগে ক্লাবটির যুব দলেও এক দশক কাটিয়েছেন রয়েস।
ফাইনালের আগে তিনি বলেছেন, ‘বরুশিয়া ডর্টমুন্ড মানে আমার জীবনের সবকিছু। কোনো ক্লাবে ১২ বছর কাটানোর পর সেটা জীবনের সবকিছু হয়ে ওঠে।’
অসাধারণ স্কিল, গোল করার দক্ষতা এবং বুদ্ধিদীপ্ত ফুটবলের জন্য রয়েসকে ‘জীবন্ত কিংবদন্তি’ খেতাব দিয়েছেন ডর্টমুন্ড কোচ এদিন তেরজিচ। ২০২৩ পর্যন্ত ডর্টমুন্ডকে পাঁচ বছর নেতৃত্ব দিয়েছেন রয়েস এবং এই সময়ে দুটি জার্মান কাপও জিতেছেন তিনি। তবে ওই দুটি ট্রফি ছাড়া ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে আর কোনো শিরোপা জিততে পারেননি রয়েস। এর পেছনে বারবার চোটের আঘাত তার ক্যারিয়ারে বড় বাধা হয়ে এসেছে।
জার্মানির ২০১৪ বিশ্বকাপ জয়ের মিশন শুরুর আগের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে চোট পেয়ে ছিটকে যান রয়েস। অন্যান্য চোটে ২০১৬ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপ খেলার আশাও শেষ হয়ে যায় তার। বুন্দেসলিগা জয়ের খুব কাছাকাছি এসেছিলেন গত মৌসুমে। কিন্তু শেষ দিনে গড়ানো শিরোপা লড়াইয়ে মাইন্সের বিপক্ষে হোঁচট খেয়ে সেই স্বপ্নও ভাঙে রয়েস ও তার দলের।
পেছনের সব হতাশা রয়েস আসছে ম্যাচে দূর করতে মরিয়া বলে মঙ্গলবার জানান ডর্টমুন্ড কোচ, ‘সিনিয়র দলের হয়ে রয়েস এখানে ১২ বছর ধরে আছে এবং এখানে যুব দলের হয়েও সে খেলেছে। লন্ডনে সে চমৎকার একটি ম্যাচ খেলতে এবং শিরোপা জিততে চায়, পূরণ করতে চায় একটি বৃত্ত। শনিবার তাকে আমার চাই। তার দক্ষতা আমার প্রয়োজন, কারণ তার সেই অভিজ্ঞতা আছে এবং সে এই মঞ্চে আগেও খেলেছে।’
লন্ডনের এই বিখ্যাত স্টেডিয়ামে এবং এই শিরোপার লড়াইয়ে রয়েস আগেও খেলেছেন। ২০১২-১৩ আসরের ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে হেরে ভেঙেছিল তাদের সেই স্বপ্ন। এক দশকের বেশি সময়ের পুরোনো সেই তিক্ত স্মৃতি এবার সাফল্যে ঢেকে দিতে চান রয়েস, ‘সেটা ১১ বছর আগের ঘটনা। এখন ভিন্ন প্রতিপক্ষ এবং আলাদা সব খেলোয়াড়। একটা ক্লাবে ২০১৩ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল দিয়ে শুরু এবং শেষটা ২০২৪ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল দিয়ে করার চেয়ে ক্যারিয়ার পূর্ণ করার আরও খারাপ উদাহরণ আছে।’