মাদরাসায় না যাওয়ায় ছাত্রকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠালেন শিক্ষক

সাভারের আশুলিয়ায় বৃষ্টির কারণে মাদরাসায় যেতে না পারায় আরাফাত ইসলাম রায়হান (১২) নামের এক শিক্ষার্থীকে বেধরক পিটুনির অভিযোগ উঠেছে মাদরাসা শিক্ষক নাঈমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষর্থীর পরিবার আশুলিয়া থানায় অভিযোগ করেছেন।

আজ বুধবার দুপুরে অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মাজহার। এর আগে গত সোমবার (২৭ মে) ওই শিক্ষার্থীকে বেধরক পিটুনির ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে থানায় অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা কামরুল ইসলাম।

ভুক্তভোগী আরাফাত ইসলাম রায়হান আশুলিয়ার কান্দাইল নয়াপাড়া এলাকার গার্মেন্টস শ্রমিক কামরুল ইসলামের ছেলে। সে পরিবারের সঙ্গে থেকে স্থানীয় কান্দাইল হাকিম মার্কেট এলাকার কান্দাইল আবরার কাউনিয়া মাদরাসায় পড়ে। তবে অভিযুক্ত শিক্ষকের নাঈমের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

শিক্ষার্থী রায়হান ইসলাম বলে, রবিবার বৃষ্টির কারণে মাদরাসায় যেতে পারিনি। সোমবার বাবা আমাকে মাদরাসায় দিয়ে কাজে যান। পরে আগের দিন মাদরাসায় না যাওয়ার কারণে হুজুর আমাকে পিটিয়ে আটকে রাখেন। সন্ধ্যার দিকে সবাই মাগরিবের নামাজ পড়তে গেলে আমি পালিয়ে বাসায় চলে আসি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা কামরুল ইসলাম বলেন, গত দেড় বছর ধরে আমার ছেলে কান্দাইল আবরার কাউনিয়া মাদরাসায় লেখাপড়া করছে। গত সোমবার সকালে রায়হানকে মাদরাসায় দিয়ে আমি কাজে যাই। রাতে বাসায় ফিরে দেখি ছেলে হাঁটতে পারছে না। পরে তার কোমরের নিচে থেকে পা পর্যন্ত জখমের দাগ দেখে জানতে চাইলে সে মারধরের বর্ণনা দেয়। ছেলের সুস্থ্যতার জন্য তাকে স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করি।

তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার সকালে ছেলেকে নিয়ে মাদরাসায় গিয়ে মারধরের কারণ জানতে চাইলে উলটো তারা আমার ছেলেকেই অপরাধী বানায়। আমার ছেলে নাকি শিক্ষককে ধাক্কা দিয়েছে। তাই তাকে শাসন করা হয়েছে। এ সময় মাদরাসার সভাপতি মনির, প্রিন্সিপাল ও পিয়ার আলীর উপস্থিতিতে আমার ছেলেকে ওই শিক্ষকের কাছে ক্ষমা চাইতে হয়। বিচার না পেয়ে মঙ্গলবার রাতেই আমি আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করি। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ মাদরাসায় গেলেও অভিযুক্ত শিক্ষক নাঈমকে আটক করতে পারেনি। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

জানতে চাইলে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা ও আশুলিয়া থানার এএসআই মাজহার বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। ভুক্তভোগীরা বিষয়টি মীমাংসা করে নিয়েছেন। বর্তমানে ওই শিক্ষার্থী স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি আছে। তবে ভুক্তভোগীর বাবা কামরুল ইসলাম মীমাংসার বিষয়টি অস্বীকার করে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।