দক্ষিণ চীন সাগরে বিপন্ন প্রবাল ধ্বংস করছে চীনা জেলেরা, তদন্তের আহ্বান ফিলিপাইনের

দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের উপকূলরক্ষীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এলাকায় দেশটির জেলেরা পরিবেশগত ক্ষতি করছে এবং ওই এলাকায় বিরল ও বিপন্ন দৈত্যকার প্রবালের ক্ষতি করছে বলে জানিয়েছে ফিলিপাইন।

এই অঞ্চলে পরিবেশগত ক্ষতির বিষয়ে চীনা জেলেদের দায়ী করে আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে ফিলিপাইন। খবর এপি।

জায়ান্ট ক্ল্যামস এক ধরনের বিরল ও বিপন্ন দৈত্যকার প্রবাল। এটি একটি অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত প্রজাতি, যা বিপন্ন প্রজাতি আইনের অধীনে সুরক্ষিত।

ফিলিপাইনের দাবি দক্ষিণ চীনের দ্বীপ স্কারবোরো শোল থেকে কয়েক বছর ধরে বিপুল পরিমাণ জায়ান্ট ক্ল্যামস প্রবাল সংগ্রহ করছেন চীনা জেলেরা। এমনকি চীনা জেলেদের প্রবাল সংগ্রহের ছবিও উপস্তাহপন করেছে দেশটি। তবে ২০১৯ সালের মার্চ থেকে এসব প্রবাল সংগ্রহ বন্ধ রয়েছে।

ফিলিপাইনের অভিযোগ চীনা জেলেদের প্রবাল সংগ্রহের ফলে ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে প্রবালের এলাকাটি। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বিপন্ন প্রজাতিটির।

উত্তর-পশ্চিম ফিলিপাইনের কাছে বাজো দে মাসিনলোক স্থানটিতে অবশিষ্ট কিছু প্রবাল রয়েছে। বাকিগুলো তুলে নিয়ে গেছে চীনা জেলেরা। ফিলিপাইনের কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র কমডোর জে টেরিয়েলা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "এগুলিই ছিল শেষ অবশিষ্ট জায়ান্ট ক্ল্যাম প্রবাল যা আমরা বাজো দে মাসিনলোকে দেখেছি।"

ফিলিপাইনের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সহকারী মহাপরিচালক জোনাথন মালায়া বলেন, “সেখানে যে পরিস্থিতি ঘটছে তাতে আমরা উদ্বিগ্ন ও উদ্বিগ্ন।” তিনি আরও বলেন, ‘চীনের উচিত জাতিসংঘ এবং পরিবেশগত সংগঠনের মাধ্যমে স্বাধীন তদন্তের অনুমতি দেওয়া।‘

তবে এ বিষয়ে ম্যানিলায় চীনা দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি বলে জানায় এপি।

চীনের দাবি, দক্ষিণ চীন সাগরের ৯০ শতাংশই তাদের অংশ। তবে ২০১৬ সালে একটি আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল তাদের রায়ে জানায়, চীনের এ দাবির কোনও ভিত্তি নেই। তবে চীন এ রায় মানেনি।

এছাড়া বিরোধপূর্ণ এই অঞ্চল নিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেও উত্তেজনা রয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হুমকি দেন, চীন যদি ফিলিপাইনের ওপর কোনও আক্রমণ করে তাহলে দেশটিকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে আসবে।

এরপর থেকেই দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের নানা কর্মকাণ্ডকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে ফিলিপিনো কর্তৃপক্ষ।