শনিবার ভিটামিন 'এ' খাবে ৬-৫৯ মাস বয়সী শিশুরা

আগামী শনিবার (৩১ মে) জাতীয় ভিটামিন 'এ' প্লাস ক্যাম্পেইন। এদিন দেশের ৬-৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে বিনামূল্যে ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এ সময় শিশুদের ভরাপেটে কেন্দ্রে আনার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলের কিছু এলাকায় পরিবর্তিতে এই কর্মসূচি পালিত হবে।

বৃহস্পতিবার (৩০ মে) রাজধানীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য ভবনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভিটামিন 'এ' প্লাস ক্যাম্পেইনের এ তথ্য জানান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৬-৫৯ মাস বয়সী প্রায় ২ কোটি ২২ লাখ শিশুকে দিনব্যাপী এই ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর মধ্যে ৬-১১ মাস বয়সী ২৭ লাখ শিশুকে নীল রঙের ও ১২-৫৯ মাস বয়সী ১ কোটি ৯৫ লাখ শিশুকে লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্রে ২ লাখ ৪০ হাজার স্বেচ্ছাসেবী ও ৪০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী এই ক্যাপসুল খাওয়াবেন। তবে ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে উপকূলে বেশ ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় এক হাজার ২২৪টি কেন্দ্র বন্ধ থাকবে। এসব কেন্দ্রে পরবর্তীতে কর্মসূচি পালন করা হবে। 

সম্মেলনে অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল শিশুর অন্ধত্ব প্রতিরোধ করে, দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করে ও সকল ধরনের মৃত্যু ২৪ শতাংশ কমায়। এছাড়াও হাম, ডায়রিয়া এবং নিউমোনিয়ার কারণে মৃত্যু উল্লেখযোগ্য হারে কমায়।

এই কর্মকর্তা জানান, ভিটামিন মূলত দুই ধরনের-ওয়াটার সলিউবল ও ফ্যাট সলিউবল। যেগুলো পানিতে দ্রবীভূত হয় সেগুলো ওয়াটার সলিউবল, যেমন- ভিটামিন সি। আর ফ্যাট সলিউবল হচ্ছে যেগুলো চর্বিতে জমা হয়, যেমন- ভিটামিন এ। ভিটামিন এ অনেকদিন পর্যন্ত শিশুর শরীরে জমা হয়ে থাকবে এবং কার্যকর থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়, কাঁচি দিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের মুখ কেটে এর ভেতরে থাকা সবটুকু তরল ওষুধ চিপে খাওয়াতে হবে। জোর করে বা কান্নারত অবস্থায় ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে মহাপরিচালক বলেন, দেশ স্বাধীনের পর অপুষ্টিজনিত কারণে শিশুদের মাঝে রাতকানা রোগের হার ছিল ৪ শতাংশ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম গ্রহণ করে শিশুদের ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু করেন। পরবর্তীতে ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়ানো অব্যাহত রাখার ফলে বর্তমানে ভিটামিন 'এ' এর অভাবজনিত রাতকানা রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা প্রায় নাই বললেই চলে।