রোদ ঝড় বৃষ্টি সবকিছুতেই আটকাচ্ছে মেট্রোরেল

দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণের জন্য রাজধানীবাসীর কাছে দিন দিন বাড়ছে মেট্রোরেলের চাহিদা। সড়কে নানা জট-জটিলতায় মানুষের চলার ভরসা এখন মেট্রোরেল। কিন্তু ঝড়-বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক কারণে কিংবা যান্ত্রিক ত্রুটিতে হুটহাট মেট্রোরেল বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আধঘণ্টা বন্ধ ও পরে ১৫ মিনিট পরপর চলায় ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। প্রতিটি স্টেশনে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। শুধু গতকালকেই নয়, চলতি সপ্তাহে বেশ কয়েকবার মেট্রোরেল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

মিরপুরের বাসিন্দা মো. নাইম মতিঝিল এলাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন সাত বছর ধরে। মো. নাইম বলেন, ‘মিরপুরে বাসা হওয়ায় সাত বছর ধরে আমাকে প্রতিনিয়ত যানজট পাড়ি দিয়ে দুই ঘণ্টার বেশি সময় হাতে নিয়ে অফিসে যেতে হতো। কিন্তু বর্তমানে মতিঝিল থেকে উত্তরা পর্যন্ত মেট্রোরেল চলাচল করায় ঘড়ির টাইম মেপে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে মিরপুর থেকে অফিসে চলে যাওয়া যায়। তবে সম্প্রতি মেট্রোরেল হুটহাট বন্ধ থাকায় নির্দিষ্ট সময় ঘড়ির টাইম মেপে যাত্রা করা যাচ্ছে না। আজ (গতকাল) মিরপুর-১০ থেকে স্টেশনে গেলাম। হাতে ৩০ মিনিটের মতো সময় রেখে স্টেশনে গেলাম। প্রথমে দেখি মেট্রো বন্ধ। তারপর আবার ১৫ মিনিট পরপর ট্রেন আসছে। এতে করে আমার অফিসে যাওয়া নিয়ে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়েছে।’

আরেক যাত্রী মো. আবদুল্লাহ বলেন, ‘গত সোমবার মিরপুর এলাকায় অনেক জায়গায় হাঁটুপানি ছিল। সেই সঙ্গে ছিল গাড়ি সংকট। বৃষ্টি থাকায় রিকশা ভাড়াও কয়েকগুণ বেশি। তাই মেট্রোরেলে যাতায়াতের জন্য দুপুরের দিকে পল্লবী স্টেশনে যাই। কিন্তু গিয়ে দেখি মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ। প্রয়োজনের সময় যদি ব্যবহার করতে না পারি, তাহলে কী লাভ এই মেট্রোরেল দিয়ে?’

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মো. রাজু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত শনিবার সন্ধ্যায় মোহাম্মদপুর থেকে জরুরি কাজে মতিঝিল যাওয়ার কথা ছিল। তাই মেট্রোরেলের ফার্মগেট স্টেশনে যাই। কিন্তু মেট্রো চলাচল বন্ধ থাকায় সেখানে ৩০ মিনিট বসে থাকতে হয়। এই যে হুটহাট মেট্রো বন্ধ হয়ে যায়, এজন্য বড় রকমের সমস্যায় পড়তে হয়।’

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) মহাব্যবস্থাপক ইফতেখার হোসেন বলেন, ‘সকালের দিকে ১৫ মিনিট পরপর চলছিল মেট্রোরেল। পরে সকাল সোয়া ১০টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।’

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএমটিসিএলের একটি সূত্র জানায়, হুটহাট মেট্রো বন্ধ হওয়ায় কর্তৃপক্ষ আগের চেয়ে বেশি তৎপর হয়েছে। কারিগরি ত্রুটির জন্য মেট্রো চলাচল বন্ধ থাকলেও কীভাবে দ্রুত সমস্যা সমাধান করা যায়, তা নিয়ে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।

মেট্রোরেল মানুষের জীবনযাত্রার মান অনেক দিক থেকেই পরিবর্তন এনেছে উল্লেখ করে বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. হাদিউজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মানুষ কম সময়ের মধ্যে কোথাও যেতে চাইলে মেট্রোরেলকে ভরসা করে। আর দিন দিন মেট্রোরেলের চাহিদা বাড়ছে। ঠিক এ সময়ের মধ্যে হুটহাট মেট্রোরেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীরা বিপাকে পড়ে যায়। যার জন্য নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে মেট্রোরেলে। তাই কর্র্তৃপক্ষের উচিত কোনো সমস্যা হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান করা।’