ইংল্যান্ডের ওয়েম্বলিতে শনিবার রাত কে রাঙাবে? এই প্রশ্নের উত্তর জানা যাবে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল শেষে। বুরুশিয়া ডর্টমুন্ডের দ্বিতীয় নাকি রিয়াল মাদ্রিদের রেকর্ড ১৫তম! জার্মান ক্লাবটি শিরোপা জেতে না ২৭ বছর হয়ে গেল। তাই উভয়ই মরিয়া। যে কারণে ইতিহাস সেরা ফাইনালও হয়ে যেতে পারে এবার। এর আগে যতগুলো ফাইনাল হয়েছে তার মধ্য থেকে সেরা ৫ ফাইনাল আজও সমর্থকদের চোখে জ্বলজ্বল করছে।
১. এসি মিলান বনাম লিভারপুল (২০০৪-০৫)
৩-৩ গোলে ড্রয়ের পর পেনাল্টি শুটআউটে জয় পায় লিভারপুল
এই ম্যাচটা যে চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসের সেরা ফাইনালের তালিকায় শীর্ষে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ৩০ বছর ধরে ইউরোপ সেরার মুকুট বঞ্চিত ছিল লিভারপুল। ১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে শেষবার তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তিন দশকের খরা ঘোচানোর এটা ছিল সেরা সুযোগ। তবে প্রতিপক্ষটা যে এসি মিলান। তাই লড়াইটা হলো সেয়ানে সেয়ানে। আর এই ম্যাচটা তালিকার ১ নম্বরে উঠেছে মূলত লিভারপুলের ফিরে আসার এক দারুণ গল্পের মাধ্যমে।
এই প্রজন্মের অনেকেই হয়তো ভাবতে পারে ম্যাচটা দেখেই চন্দ্রবিন্দু ‘এভাবেও ফিরে আসা যায়’ গানটি লিখেছিল। সেটার সত্যতা না থাকলেও ঘটনা যে একই তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সেই রাতটা ছিল আবার ইস্তাম্বুলের আতাতুর্ক অলিম্পিক স্টেডিয়ামে।
প্রথমার্ধের প্রথম মিনিটেই পাওলো মালদিনির গোলে এগিয়ে যায় মিলান। তারপর ৩৯ ও ৪৪ মিনিটে জোড়া গোল করেন হার্নান ক্রেসপো। ৩-০ গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে ইতালিয়ান ক্লাবটি। জয় নিশ্চিত, এটাই লিখা হয়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধের ৯ মিনিটের যাদুতে যে সবকিছু ওলটপালট করে দেবে লিভারপুল তা হয়তো দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি কেউ।
৫৪ মিনিটে স্টিভেন জেরার্ড গোল করে ব্যবধান কমান। দুই মিনিট পর ভ্লাদিমির স্মিচার গোল করে ব্যবধান ১-এ নিয়ে আসেন। ৬১ মিনিটে লিভারপুলকে সমতায় ফেরান জাবি আলোনসো। সমতায় ফেরার পর স্টেডিয়ামজুড়ে ফিরে টানটান উত্তেজনা। এক গোল হলেই নিশ্চিত হয়ে যেত জয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে খেলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। পেনাল্টি শুট আউটে গিয়ে ৩-২ গোলে এসি মিলানকে হারিয়ে তিন দশকের খরা ঘোচায় ইংলিশ ক্লাবটি।
আর এমন ফিরে আসার গল্প লেখাতেই ম্যাচটি হয়ে যায় চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসের সেরা ফাইনাল।
২. রিয়াল মাদ্রিদ বনাম অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ (২০১৩-১৪)
অতিরিক্ত সময়ের খেলা শেষে ৪-১ গোলের জয় রিয়াল মাদ্রিদের
ইউরোপের অভিজাত প্রতিযোগিতার ফাইনালে একটি ডার্বি হয়েছিল। মাদ্রিদের দুই ক্লাব মুখোমুখি হয়েছিল সেদিন লিসবনের এস্তাদিও দা লুজে। ঘড়ির কাঁটায় মাত্র আট মিনিট, প্রাক-বিদ্যমান চোটের একটি জ্বলজ্বল দিয়েগো কস্তাকে মাঠ ছেড়ে যেতে হয়েছিল। ফাইনাল জিততে মরিয়া ছিল অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ। ৩৬ মিনিটে তারা পেয়ে যায় গোলেরও দেখা। পুরো ম্যাচজুড়ে সেই ব্যবধান নিয়ে এগোচ্ছিল তারা। রেফারির শেষ বাঁশি বাজতে যখন আর কয়েক মুহূর্তের অপেক্ষা মাত্র তখনই গোল করে রিয়ালকে সমতা এনে দেন সার্জিও রামোস।
খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। তখনই মাঠে আসল রূপ দেখায় রিয়াল। ১১০ মিনিটে গ্যারেথ বেল গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। ৮ মিনিট পর গোল করেন মার্সেলো। দুই মিনিট পর পেনাল্টি থেকে গোল পান ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পিছিয়ে থেকেও ঘুরে দাঁড়ানোর অনন্য নজির রিয়ালের অসংখ্য। তবে এটা মনে রাখার মতোই এক ঘুরে দাঁড়ানো। কারণ ম্যাচটা যে ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের।
৩. রিয়াল মাদ্রিদ-লিভারপুল (২০১৭-১৮)
রিয়াল মাদ্রিদ ৩-১ গোলে জয়ী
রিয়াল মাদ্রিদকে হাতছানি দিচ্ছিল হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়নস লিগ ট্রফি জয়ের। অন্যদিকে লিভারপুলের ফিরে আসার বার্তা। কিন্তু ইয়ুর্গেন ক্লপের শিষ্যরা সেদিন তা পারেননি। সাদিও মানে-মোহাম্মদ সালাহদের সেদিন মন ভেঙেছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোরা। করিম বেনজেমে ৫১ মিনিটে গোল করার পর ৫৫ মিনিটে সাদিও মানে সেটা শোধ করে ফেলেছিলেন। কিন্তু ৬৪ আর ৮৩ মিনিটে গ্যারেথ বেলের জোড়া গোলে রিয়াল ৩-১ গোলের জয়ে নিশ্চিত করে হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের।
৪. ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বনাম বায়ার্ন মিউনিখ (১৯৯৮-৯৯)
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ২-১ গোলে জয়ী
স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের আমলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছিল অপ্রতিরোধ্য এক দল। ঐ বছর বায়ার্ন মিউনিখও ছিল শিরোপা জয়ের অন্যতম ফেভারিট। ক্যাম্প ন্যুতে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে বায়ার্ন নব্বই মিনিট ম্যাচ নিজেদের দখলে রেখেছিল। তবে মাত্র ছয় মিনিটের ব্যবধানে মারিও বাসলার ফ্রি কিক থেকে গোল করে ম্যানইউয়ের জয় নিশ্চিত করেন। সেটা ছিল ১৯৬৮ সালের পর ম্যানইউর প্রথম কোনো ইউরোপীয় শিরোপা জয়।
৫. এসি মিলান বনাম বার্সেলোনা (১৯৯৩-৯৪)
এসি মিলান ৪-০ গোলে জয়ী
১৯৯৪ সালে ইয়োহান ক্রুইফের বার্সেলোনা যখন চোট বিধ্বস্ত এসি মিলানের বিপক্ষে মুখোমুখি হয়েছিল, তখন এথেন্সের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে দুই ইউরোপিয়ান জায়ান্টের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়েছিল। গ্রিসের স্টেডিয়ামে কাতালানরা ৪-০ গোলে হেরে ফিরে এসেছিল ঘরে। সেটা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেরা ফাইনালের মধ্যে আছে পঞ্চম স্থানে