আজ শনিবার (১ জুন) সকাল থেকে ভারতের ৫৭টি কেন্দ্রে চলছে সপ্তম দফা তথা শেষ দফার লোকসভা নির্বাচন। আগামী চারজুন ঘোষণা করা হবে দেশটির ১৮তম লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল। কিন্তু এই আগেই নির্বাচন নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য জানাল কৃত্তিম বুদ্ধমত্তা ‘চ্যাট জিপিটি’র নির্মাতা সংস্থা ‘ওপেন এআই’।
সংস্থাটি বলছে, কৃত্তিম বুদ্ধমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টালিজেন্সের (এআই) মাধ্যমে ভারতের লোকসভা নির্বাচন ব্যাহত করার চেষ্টা করছিল ইসরায়েলের রাজনৈতিক একটি সংস্থা। তবে সেই চেষ্টা রুখে দিয়েছে ওপেন এআই।
শনিবার ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জিরো জেনো নামক প্রচারণা চালিয়ে ভারতের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছিল ইসরায়েলের সংস্থা এসটিওআইসি। এতে বিজেপিকে বিরোধিতা করে ও কংগ্রেসকে সমর্থিত কমেন্টগুলোকে প্রচার করার চেষ্টা করা হচ্ছিল।
ওপেনএআই জানায়, মে মাসে ইসরায়েলি সংস্থাটি ভারতের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রচার প্রচারণা শুরু করে। সেখানে ওপেনএআই-এর শক্তিশালী ল্যাংগুয়েজ মডেলগুলো কাজে লাগিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল, আর্টিকেল ও কমেন্ট তৈরি করা হয় যার মাধ্যমে ক্ষমতাসীন বিজেপির সমালোচনা করা হয়েছে এবং কংগ্রেসের প্রশংসা করা হয়েছে। এবং এই পুরো প্রচারণার নাম দেয় হয় জিরো জেন।
ওপেন এআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্যাম অল্টম্যান জানান, “আমরা ভারতীয় নির্বাচন শুরু হওয়ার ২৪ ঘন্টারও কম সময়ের মধ্যে কিছু কার্যকলাপকে ব্যাহত করেছি।"
ওপেনএআই বলছে যে তারা, ইসরায়েল থেকে পরিচালিত অনেকগুলো অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করেছে যেগুলো সামাজিক মাধ্যম এক্স, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ওয়েবসাইট এবং ইউটিউবে প্রচারণার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল।
অ্যাকাউন্টগুলো থেকে প্রচারণাগুলো কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলিদের লক্ষ্য করে করা হচ্ছিল এবং মে মাস থেকে ইংরেজি ভাষায় ভারতীয়দের লক্ষ্য করে প্রচার চালাচ্ছিল।
ওপেনএআই এর এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি এটিকে গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক হুমকি বলে মন্তব্য করেছে।
ওপেন এআই বলছে, ইসরায়েলি সংস্থার এই প্রচারণা রুখে দিয়েছে তারা। মে মাসে এই কর্মকাণ্ড নিয়ে সংস্থাটি কাজ শুরু করলে তা টের পায় ওপেন এআই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক ফলাফলে প্রভাব ফেলতেই জনমতকে প্রভাবিত করতে এই গোপন প্রচারণা চলে।