লোকসভা নির্বাচন

কড়া নিরাপত্তাতেও পশ্চিমবঙ্গে সহিংসতা, ইভিএম ফেলা হল পুকুরে

সপ্তম দফায় ভোট গ্রহণের মাধ্যমে আজ শেষ হতে চলেছে ভারতের ১৮তম লোকসভা নির্বাচন। শনিবার (১ জুন) সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। শেষ দফায় সাতটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মোট ৫৭টি আসনে ভোটগ্রহণ চলছে। মোট প্রার্থীর সংখ্যা ৯০৭।

এবারের পর্বে পশ্চিমবঙ্গের ৪২টির মধ্যে নয়টি লোকসভা আসন রয়েছে। শনিবার সকাল থেকেই দমদম, বারাসাত, বসিরহাট, জয়নগর, মথুরাপুর, ডায়মন্ড হারবার, যাদবপুর, কলকাতা উত্তর ও কলকাতা দক্ষিণ আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

যদিও সকাল থেকেই প্রত্যেক বুথে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)। এর মধ্যেই বরাবরের মত ভোট শুরুর পর পর সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে। খবর এনডিটিভির।

এনডিটিভি জানিয়েছে, কলকাতার কাছে যাদবপুর নির্বাচনী এলাকার ভাঙার সাটুলিয়া এলাকায় ভারতীয় সেক্যুলার ফ্রন্ট আইএসএফ এবং সিপিআই সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। সংঘর্ষের ফলে আইএসএফের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। এমনকি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে।

এছাড়া দক্ষিণ ২৪ পরগণার কুলতলীতে একটি ভোট কেন্দ্রে বিক্ষুব্ধ জনতা প্রবেশ করে ইভিএম মেশিন পুকুরে ফেলে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছে, কয়েকজন পোলিং এজেন্টকে বুথে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়ার পর বিক্ষুব্ধ ভোটারেরা এই কাজ করেছে।

অন্যদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার ইটখোলা গ্রামে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে এলাকাটিতে উত্তেজনা বেড়ে যায়। দুই পক্ষের পাথর ছোড়াছুড়ি ও সংঘর্ষের কারণে একজন গণমাধ্যম কর্মী আহত হয়েছেন।

বসিরহাট লোকসভার অধীনে সন্দেশখালিতে শুক্রবার গভীর রাতে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনার কারণে প্রথম ঘন্টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল। স্থানীয় নারীরা বাঁশ, লাঠি তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) কর্মীদের এবং রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে৷

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি আইটি সেলের প্রধান অমিত মালভিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষোভের ভিডিও শেয়ার করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় গুন্ডা ও রাজ্য পুলিশকে ব্যবহার করে ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছেন বলে তাঁরা অভিযোগ করেছেন।

পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় ভোটগ্রহণ পরিচালিত হচ্ছে। যেকোনো ধরনের নাশকতা এড়াতে রাজ্যব্যাপী মোট ১৯৬০টি দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল (কিউআরটিএস) মোতায়েন করা হয়েছে।