বগুড়ায় আবাসিক হোটেল থেকে সেনা সদস্যের স্ত্রী ও এক বছরের ছেলে শিশুর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ রবিবার (২ জুন) দুপুরে শাজাহানপুর উপজেলার বনানী এলাকার শুভেচ্ছা হোটেলের দোতলার একটি কক্ষের খাটের নিচ থেকে মাথাবিহীন বস্তাবন্দি আব্দুল্লাহ আল রাফি (১) ও বাথরুম থেকে আশামনির (২২) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী সেনা সদস্য আজিজুল হককে (২৩) আটক করেছে শাজাহানপুর থানা পুলিশ। আটক আজিজুল হক চট্টগ্রাম সেনানিবাসে কর্মরত। দুই মাসের ছুটিতে তিনি সপরিবারে বগুড়ায় আসেন। আজিজুল বগুড়ার ধুনটের হামিদুর রহমানের ছেলে।
হোটেল কক্ষ থেকে একটি ধারালো চাকু ও একটি চাপাতি উদ্ধার করেছে পুলিশ। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। দুপুরে ২টার দিকে বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরাফত ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শাজাহানপুর থানার পুলিশ ও হোটেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় আজিজুল হক তার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে হোটেলে আসেন। রাত্রীযাপনের জন্য তিনি একটি কক্ষ ভাড়া নেন। রাত ১১টার দিকে আজিজুল হোটেল থেকে বের হয়ে যায়। আজ রবিবার সকাল ১১টার দিকে আজিজুল হক হোটেলে কক্ষের ভাড়া পরিশোধ করতে আসেন। কিন্তু তখন তার সঙ্গে স্ত্রী ও সন্তান না থাকায় হোটেল ম্যানেজারের সন্দেহ হয়। এরপর আজিজুলকে আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে ওই কক্ষের ভেতর তার স্ত্রীর গলকাটা বিবস্ত্র লাশ বাথরুমে ও খাটের নিচে বস্তাবন্দী মাথাবিহীন সন্তানের লাশ দেখতে পান।
জানা যায়, নিহত শিশু রাফির মাথা কেটে তা ব্যাগে বগুড়া শহরের চেলোপাড়া রেল ব্রীজ এলাকায় নদীতে ফেলে দেন বাবা আজিজুল। তাকে নিয়ে ওই স্থানে অভিযানে যায় সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সদস্যরা। বিকেল ৩টা পর্যন্ত এ রিপোর্ট লেখা শিশু রাফির বিচ্ছিন্ন করা মাথা উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। রাজশাহী থেকে ডুবুরি দল পৌঁছালে আবারও করতোয়া নদীতে অভিযান চালানো হবে জানা যায়।
নিহত আশামনির ভাই মেহেদি হাসান সনি জানান, সেনা সদস্য আজিজুল হকের সঙ্গে প্রায় তিন বছর আগে তার বোনের বিয়ে হয়। দুই মাসের ছুটি নিয়ে সে কিছুদিন আগে বগুড়ায় আসে। এরপর তার ভগ্নিপতি আজিজুল গত বৃহস্পতিবার শহরের নারুলি এলাকায় শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে আসে। শনিবার বেড়ানোর কথা বলে আজিজুল হক তার বোন ও ভাগ্নেকে নিয়ে বেড়িয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, ভগ্নিপতি আজিজুল হকের দাম্পত্য কলহ ছিল। তার ধারণা দাম্পত্য কলহের কারণেই তার বোন ও ভাগ্নেকে খুন করা হয়েছে। বিয়ের সময় তারা ভগ্নিপতিকে মোটা অংকের টাকা যৌতুক হিসেবে দিয়েছিলেন। কিন্তু তার পরেও তিনি নানা অজুহাতে টাকা চাইতেন।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ (সদর সার্কেল) সরফাত ইসলাম বলেন, স্ত্রী-সন্তানকে গলা কেটে হত্যার পর প্রথমে হোটেল কক্ষ ত্যাগ করেছিলেন আজিজুল হক। পরে হোটেল কক্ষে এসে নাটক সাজানোর চেষ্টা করলে হোটেল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়। পুলিশে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আজিজুল হককে আটক করে।
শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, সেনা সদস্য আজিজুল হক হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার দাবি সে তার সন্তানের মাথা পাশের করতোয়া নদীকে ফেলে দিয়েছে। নিহত শিশুর মাথা খোঁজা হচ্ছে।