৩ হাজার টাকা বিলের জন্য আটকে রাখা হয় শিশু রোগীকে, হাসপাতালেই মৃত্যু

মানিকগঞ্জের ঘিওরে একটি হাসপাতালে বিল পরিশোধ না করায় দেড় বছর বয়সী এক শিশুকে আটকে রাখা হয় এবং সেখানেই সেই শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠেছে। এর প্রতিবাদে ওই হাসপাতাল ঘিরে বিক্ষোভ করেছে শিশুর স্বজনরা। 

শিশুটির পরিবারের দাবি, মাত্র ৩ হাজার টাকা বিলের জন্য শিশুসহ তাদের আটকে রাখা হয়। এতে বিনা চিকিৎসায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করলেও, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি করেছে বলে জানিয়েছে। 

রবিবার (২ জুন) দুপুর ১২টার দিকে জেলার ঘিওর উপজেলার তরা (গিলন্ড) এলাকায় মুন্নু মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটেছে। 

নিহত শিশু রেজওয়ান শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুর ইউনিয়নের ফলসাটিয়া গ্রামের সোহেল গাজীর ছেলে। এ দিকে কর্তৃপক্ষের অবহেলায় শিশুটির মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর স্বজনরা হাসপাতাল ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে। পরে ঘিওর থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্বজনরা জানান, শনিবার রাত ২টার দিকে দেড় বছরের শিশু রেজওয়ানের শ্বাসকষ্ট শুরু হলে মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে শিশুটির অবস্থার অবনতি হতে শুরু করলে (রবিবার) সকাল ৮টায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা শিশু হাসপাতালে রেফার করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক টিম। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইমার্জেন্সি মুহূর্তে ৩ হাজার টাকা বিলের জন্য রেজওয়ান ও তার স্বজনদের আটকে রাখে। এ অবস্থায় বেলা ১১টার দিকে শিশু রেজওয়ান মারা যায়। 

শিশু রেজওয়ানের বাবা সোহেল গাজী বলেন, রেজওয়ানকে ভর্তির পর কোনো উন্নতি হয়নি দেখে সকাল ৮টার দিকে ঢাকায় রেফার করে দেয় এখানকার ডাক্তার। ওই মুহূর্তে রেজওয়ানের মা এবং দাদি হাসপাতালে ছিল। তাদের কাছে কোনো টাকা ছিল না। ৩ হাজার টাকা বিলের জন্য, তিন ঘণ্টার বেশি আটকে রাখার কারণে রেজওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

এ দিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মুন্নু মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, গত রাত ২টার দিকে রেজওয়ান নামের শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিশুটির তীব্র মাত্রায় নিউমোনিয়া ধরা পড়ে। এ অবস্থায় শিশুটির স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় ঢাকায় রেফার করা হয়েছিল। কিন্তু তার স্বজনরা তাকে নিতে দেরি করায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, স্বজনদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জুনিয়র অ্যাডমিন অফিসার ইফাজ আহাম্মদকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হয়েছে। সেইসঙ্গে ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের পর দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এ বিষয়ে ঘিওর থানার অফিসার ইনচার্জ সুকুমার বিশ্বাস বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে স্বজনরা। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।