হেইনরিখ ক্লাসেন ২০২৩ সালে শুরু থেকে টি-টোয়েন্টিতে অসাধারণ ফর্মে রয়েছেন। অসংখ্য ছক্কা মেরেছেন এবং এই সময় তার স্ট্রাইকরেট ১৮০-এর ওপরে। ১৯৫ টি-২০ ম্যাচে ৪৪৫৯ রান তুলতে ২৮৭ বাউন্ডারির পাশাপাশি ২৪২টি ছক্কা হাকানো ক্লাসেনকে এবি ডি ভিলিয়ার্স বর্ণনা করেছেন বর্তমানে ফরম্যাটে সেরা স্পিন খেলোয়াড় হিসেবে। দক্ষিণ আফ্রিকার এই ব্যাটার কিভাবে এতো ছক্কা মারেন, পাওয়ার হিটিং, তার ব্যাট সুইং এবং ছক্কা মারার সময় মানসিকতা সম্পর্কে কথা বলেছেন ইএসপিএনক্রিকিনফোর 'ক্রিকেট মান্থলি'র সঙ্গে
এত বড় মাঠ কি আছে যেখানে আপনি ছক্কা মারতে পারবেন না?
ক্লাসেন: এটা মানসিকতার উপর নির্ভর করে। কখনও কখনও ভিতরের বলয় (৩০-গজের বৃত্ত? অনেক দূরে মনে হয়। এই সময় আপনি যদি অস্ট্রেলিয়ায় না খেলেন, তাহলে অন্যান্য দেশের মাঠগুলো সত্যিই বড় নয়। ইংল্যান্ডর মাঠগুলো ভালোই বড়। ভারতে আমার মনে হয় সব মাঠ তুলনামূলকভাবে ছোট- ৬০ থেকে ৭৫ মিটার পর্যন্ত। তাই, হ্যাঁ, মাঠ ছোট হয়ে আসছে। আশা করি, এটি এমনই থাকবে, ছক্কা মারাকে কিছুটা সহজ করে তোলে (হাসি)।
মাঠ ও বাউন্ডারির আকার জানাটি কি আপনার মানসিকতার উপর প্রভাব ফেলে?
ক্লাসেন: আসলে তা না. আপনাকে বাউন্সের সাথে লড়াই করতে হবে কি না এবং আপনি কোন পজিশনে যাবেন তা শুধু খুঁজে বের করতে হবে। কখনও কখনও বলটি বাতাসে মারতে ভাল হয় কারণ বাউন্ডারিটা অন্যদের তুলনায় কিছুটা ছোট হয়। এটা আসলে একটি গেমপ্ল্যানের বিষয়।
২০২৩ সালের শুরু থেকে, শুধুমাত্র নিকোলাস পুরানই আপনার চেয়ে বেশি ছক্কা মেরেছেন, কিন্তু তিনি আপনার চেয়ে বেশি বলে খেলেছেন। গত বছরের মে থেকে, আপনি গড়ে প্রতি ৬.৯ বলে একটি ছক্কা মারছেন। এবারের আইপিএলে আপনি প্রতি ৬.৭৩ বলে একটি ছক্কা মেরেছেন। অবিশ্বাস্য সংখ্যা।
ক্লাসেন: মজার বিষয় হল, আমি সেদিন ফাফ [ডু প্লেসি]'র কাছে জানতে চেয়েছিলাম কিভাবে সে আইপিএলে এত ধারাবাহিক এবং সফল হলো। তিনি বলেছিলেন , মালিকরা কেবল সেই খেলোয়াড়দের নিয়ে ভাবে, যারা ছক্কা মেরে ম্যাচ জেতাতে পারবে (হাসি)।
যতো বেশি অনুশীলন করি ততো বেশি ফল পেতে শুরু করেছি। বেশি বেশি বল সুইং প্র্যাকটিস করি যাতে ওটা ভালো একটা পর্যায়ে যেতে পারে, প্রয়োজনটা মেটাতে পারে। এবং যেহেতু প্রতিটি সুইং একটার চেয়ে আরেকটা বিশেষ, তাই বিষয়টা মাথার ভেতর নিতে অনুশীলন চালিয়ে যাই। গত দুই বছর ধরে আমি সৌভাগ্যবান যে বলটি খুব নিখুত ভাবে হিট করতে পেরেছি৷
কখনও কখনও এটি অন্য যে কোনও কিছুর চেয়ে মানসিক খেলা হয়ে ওঠে কারণ মানুষ আপনাকে ছক্কা মারতে দেখতে চায়। তাই আপনাকে প্রথম বল থেকেই ছক্কা মারায় যেতে হয়। কখনও কখনও আপনাকে নিজের সাথে লড়াই করতে হয় (প্রতি বলে একটি ছক্কা মারার তাগিদ কমাতে)। এই মৌসুমে আমি নিজের সাথে বেশ কিছুটা লড়াই করছি কারণ আমি অপ্রয়োজনীয়ভাবে আউট হয়েছি।
বেশ কটা উইকেট পড়ার পরও দেখা যায় আপনি একই মানসিকতায় খেলেন। প্রথম বলেই কি ছক্কা মেরে সরাসরি প্রতিপক্ষের ওপর চাপ দিতে চান এবং 'আমি চ্যালেঞ্জ নিতে পিছপা হবো না' বোঝাতে চান?
ক্লাসেন: হ্যাঁ, আমাদের দুজনেরই স্পিনার হিট করার সুনাম আছে। এবং কিছু বোলার আছে যাদের বিরুদ্ধে আমরা শক্তিশালী বলে বিশ্বাস করি। ওই বোলারদের বিরুদ্ধে আপনি সবসময় ঝুঁকি নেওয়ার চেষ্টা করবেন। আপনি ছন্দটা এনে দিতে চাইবেন।
এবারের আইপিএল ছক্কা মারার রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। আপনার মতো ব্যাটাররা, ট্র্যাভিস হেড, অভিষেক শর্মা, সুনীল নারিন, ফিল সল্ট, জ্যাক ফ্রেজার-ম্যাগার্ক এবং স্টাবসরা যতটা সম্ভব ছক্কা মারতে চেয়েছেন। আপনি গত এসএ টি২০তেও এটি সহজেই করেছিলেন। তাহলে কি স্ট্রাইক রোটেট করার কোনো পরিকল্পনা থাকে না?
ক্লাসেন: আমার মতো ছেলেদের জন্য, পূরান এবং স্টুবো, এটি এখনও আমাদের খেলার একটি বড় অংশ। অন্য যাদের কথা বললেন, তারা ওপেনার, তাদের জন্য স্ট্রাইক রোটেট করা কঠিন, কারণ ৩০ গজের বৃত্তের ভেতর বেশি ফিল্ডার থাকে। তারা জানে তাদের শুধু ৪০ মিটার দূরে মারতে হবে, তাহলে তারা বাউন্ডারি পাবে। তাদের হয়তো একটা দুইটা ফিল্ডারকে ফাকি দিতে হবে।
আমরা যারা পরের দিকে নাম, তাদের আউট ফিল্ডে পাচ জন ফিল্ডারকে ফাকি দিতে হয়। তাই আমাদের প্ল্যান থাকে স্ট্রাইক রেট বাড়াতে হবে, কোনো ডট বল দেয়া যাবে না। আপনি যদি কম ডট বল দেন, আপনার স্ট্রাইক রেট তত বেশি হবে, কারণ আপনি তো বাউন্ডারি-হিটার। যদি কারো বলে মারতে না পারেন তো অন্তত দুরান নিতে হবে। বল নষ্ট করা যাবে না। আগের ব্যাটারদের দুই তিনটা ডট বল দেয়ার সুযোগ থাকে।