কাজলের অভিনয় দেখছি অনেক দিন। তিনি অবশ্য ক্যারিয়ার নিয়ে কখনোই সিরিয়াস ছিলেন না। যখন যা ইচ্ছে হয়েছে করেছেন। দ্বিতীয়বার ভাবেননি। এর ফলে যা হয়েছে তা হওয়াটাই স্বাভাবিক। কাজলের ভালো সিনেমার সংখ্যা খুবই কম। নাই-ই বলতে গেলে। অথচ এই নাই-ইয়ের ভেতর তিনি স্পেশাল হয়ে আছেন।
করণ জোহরের প্রথম সিনেমা ‘কুচ কুচ হোতা হ্যাঁয়’ (১৯৯৮) । কাজল সেখানে ‘অঞ্জলি’ নামে একটা চরিত্র করেছিলেন। ওই টম বয় চরিত্র পরের জেনারেশনের অভিনেত্রীদের ইনফ্লুয়েন্স। এ ছাড়া রাজীব রাইয়ের ‘গুপ্ত’র (১৯৯৭) কথা বলা যায়। কী অদ্ভুত একটা থ্রিলার! এটা তার ক্যারিয়ারের মাস্ট ওয়াচ একটা সিনেমা।
প্রায় তিন দশক ধরে মহারাষ্ট্র এবং দক্ষিণের অভিনেত্রীদের অনেকে মনি রত্নমের একটা সিনেমার অংশ হতে চান। সেই মনি রতœম একবার কাজলকে ফোন দিয়েছিলেন ‘দিল সে’ (১৯৯৮) সিনেমাটার জন্য। মনীষা কৈরালার চরিত্রে চেয়েছিলেন কাজলকে। কিন্তু অভিনেত্রী সেটি প্রাংক কল মনে করে রেখে দিয়েছিলেন। তিনি কখনো ভাবতে পারেননি মনি রত্নম তাকে ফোন করতে পারেন।
কাজলের মায়ের নাম তনুজা। তার পরিচয় দেওয়ার কিছু নেই। উত্তম কুমারের সঙ্গে তনুজার একটা সিনেমা আছে, নাম ‘দেয়া নেয়া’ (১৯৬৩)। সেই সাদাকালো যুগেও তনুজা যে কী বিশ্বাসযোগ্য! এদিক থেকে তার মেয়ে কাজল সংলাপ বললে ক্ষেত্রবিশেষে মনে হয় চেঁচামেচি করছে। তবে তার একটা বিষয় বেশ ভালো লাগে। সেটা চোখ। কতদিন হলো তিনি অভিনয় করছেন। কিন্তু তার চোখে বয়স ধরা পড়ছে না। এখনো তার দৃষ্টি স্বচ্ছ, টলমলে। এর ফলে তার সামনে আমির খানের তরবারি চোখের ধার কমে যায়, ম্লান লাগে।
নব্বইয়ের শেষ দিকে কাজলের কাজিন রানি মুখোপাধ্যায় ‘গুলাম’ সিনেমায় আমিরের সঙ্গে কাজ করেছিলেন। সদ্য ফিল্মে নাম লেখানো রানি সেদিন আমিরের চোখের দিকে তাকাতে পারছিলেন না। কাজলের চোখ নিয়ে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে চমৎকার এক্সপেরিমেন্টটি করেন পরিচালক কুনাল কোহলি, যার নাম ‘ফানা’ (২০০৬)। সিনেমাটা যথারীতি রিমার্কেবল কিছু হয়নি। তারপরেও কাজলের জন্য তা হয়ে উঠেছিল স্পেশাল। তিনি সেখানে অভিনয় করেছিলেন অন্ধ মেয়ের চরিত্রে।