সরকারের তৈরি করা হাজার হাজার বেনজীর-আজিজ দেশটাকে গিলে খাচ্ছে বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দুর্নীতির কারণে সাবেক সেনাপ্রধানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এসেছে। সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ হওয়ার পর সরকারই তাকে বাঁচাতে গোপনে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রামের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৩তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম ফোরাম আয়োজিত ‘জাতিসত্তার রূপকার : রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান’ শীর্ষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, প্রতিদিন পত্রিকার পাতায় পাতায় পুলিশ ও র্যাবের সাবেক প্রধান বেনজীরের দুর্নীতির খবর বের হচ্ছে। সারা দেশে এমন কোনো এলাকা নেই যেখানে সে জায়গা কিনেনি বা দখল করেনি। এমন কি হিন্দু সম্প্রদায়ের জায়গা পর্যন্ত জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে। আর এই সরকার ওই চোরকে, ডাকাতকে বাঁচানোর জন্য গোপনে পাচার করে দিয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী যখন আক্রমণ করল, সবাই পালিয়ে ছিলেন। সেই মুহূর্তে চট্টগ্রাম বেতার থেকে মেজর জিয়া বলেছিলেন, "স্বাধীনতা ঘোষণা করছি," যা স্ফুলিঙ্গের মতো জ্বলে উঠেছিল বাংলাদেশে। এটি অস্বীকার করার উপায় নেই। 'আওয়ামী লীগ জিয়াউর রহমানের এত বিরোধিতা করে কিন্তু পাসপোর্ট থেকে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ বাদ দিতে পারেনি। তারা জিয়াউর রহমানকে ছোট করে দেখাতে চায় এবং তার নাম মুছে ফেলতে চায়। কিন্তু ইতিহাস জিয়াকে ধারণ করেছে। তাকে চাইলেই তাকে মুছে ফেলা যায় না। বাংলাদেশে যা কিছু সুন্দর এবং সম্ভাবনাময় সবকিছুই চালু করেছিলেন জিয়া।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে সেমিনারে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খন্দকার, এস এম ফজলুল হক, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ।
এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম ফোরামের আহ্বায়ক একরামুল করিম। কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দিন, সহ কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক হুইপ শাহজাহান চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, সম্মিলিতি পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচি, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শাহনওয়াজ, সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান প্রমুখ।