চট্টগ্রামে নগরে ফের কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় প্রাণ গেল এক শ্রমিকের। সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে মো. আজিম (১৭) নামের ওই কিশোরকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে কিশোর গ্যাং সদস্যরা। সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আগ্রাবাদ চৌমুহনী এলাকায় ওই হত্যাকা- ঘটে। এর আগে রবিবার ভিকটিম আজিম এবং নয়ন নামে এক কিশোরের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
এ ঘটনায় নিহত কিশোরের বড়বোন গতকাল মঙ্গলবার নগরের ডবলমুরিং থানায় হত্যা মামলা করেছেন। অবশ্য এর আগেই সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে আজিম হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৮ থেকে ২২ বছর বয়সী মূলহোতা নয়নসহ চারজনকে আটক করে পুলিশ। গতকাল দুপুরে এই চারজনকে আজিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. নয়ন, মো. সোহেল, মো. মামুন ও মো. রনি।
কিশোর গ্যাংয়ের হাতে আজিম খুন হয়েছেন বলে তার পরিবার দাবি করলেও ডবলমুরিং থানার ওসি ফজলুল কাদের পাটোয়ারীর দাবি, ঘটনার আগের দিন সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে আজিম ও নয়নের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে পরের দিন খুনের ঘটনা ঘটে। আজিম হত্যায় জড়িতরা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য নয়। পেশায় তারা দিনমজুর, অটোরিকশা চালক। নিহত আজিম চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজে শ্রমিক হিসেবে কাজ করত।
হত্যা মামলার বাদী বিলকিস আক্তার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা আমার ভাইকে হত্যা করেছে। আমার ভাই কোনো অপরাধে জড়িত ছিল না। ছোটবেলায় আমার মা-বাবা মারা যান। অন্যের বাসায় কাজ করে ভাইকে বড় করেছি। আমি খুনিদের ফাঁসি চাই।’
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার রাতে চৌমুহনী বরফকল এলাকায় ১৫-২০ জনের একটি কিশোর দল আজিমের ওপর হামলা চালায়। প্রথমে তাকে মারধর করে। পরে একপর্যায়ে ছুরিকাঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা আজিমকে মারতে আসা কিশোর গ্যাং সদস্যদের ধাওয়া দেন। এ সময় অনেকে পালিয়ে গেলেও এক কিশোরকে আটক করে পুলিশে দেন তারা। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করে এবং তাদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করে।