রামমন্দির বানিয়েও অযোধ্যার জনগণের মন পেলেন না মোদি

হিন্দু ভোটারদের তুষ্ট করে টানা তৃতীয় মেয়াদ নিশ্চিত করতে নির্বাচনের কয়েক মাস আগে যেখানে রাম মন্দির উদ্বোধন করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, সেই অযোধ্যা আসনেও হার মেনে নিতে হয়েছে তার দল ভারতীয় জনতা পার্টি- বিজেপিকে।

সেই রামমন্দিরের রাজ্যেই ‘মোদী ঝড়’ রুখে দিয়েছেন সমাজবাদী পার্টি (এসপি)-র প্রধান অখিলেশ যাদব এবং তাঁর সহযোগী কংগ্রেস। খবর আনন্দবাজার।

এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল অযোধ্যায় গ্র্যান্ড রাম মন্দির নির্মাণ। এটি ১৯৮০ এর দশক থেকে বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। বিজেপি সমর্থকরা দাবি করেছিল যে এ মন্দির লোকসভা নির্বাচনের বিজেপির জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কিন্তু আদতে তেমনটা হয়নি।

অযোধ্যার জনগণ বিজেপিকে ফেরালো শূন্য হাতে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিজেপির হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি পুরোদস্তুর প্রত্যাখ্যান করেছে সেখানকার মানুষ।

রয়টার্স লিখেছে, ২০১৪ ও ২০১৯ সালের নির্বাচনে জিতে পরপর দুইবার ফৈজাবাদ আসনের এমপি ছিলেন বিজেপির লুলু সিং। ওই দুই নির্বাচনে ভারতের সবচেয়ে জনবহুল এই রজ্যে যথাক্রমে ৭১ ও ৬২ আসন পেয়েছিল মোদীর দল বিজেপি। এবার তা অর্ধেকে নেমে এসেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চড়তে থাকা মূল্যস্ফীতি আর বেকারত্বের যে দুশ্চিন্তা নিয়ে ভোটাররা এবার রায় দিয়েছেন, তার কাছে মোদীর ধর্মের ধুয়া পাত্তা পায়নি।

বিজেপির ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত উত্তরপ্রদেশে এবার ভরাডুবি হয়েছে মোদির। রাজ্যের ৮০টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৩৭টিতে জিতে একক বৃহত্তম দল হয়েছে এসপি। আর সহযোগী কংগ্রেস জিতেছে ছয়টিতে। অন্য দিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দল জিতেছে ৩৩টি লোকসভা আসনে।

মঙ্গলবার ঘোষিত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলে বিজেপির নির্বাচনি জোট ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের (এনডিএ) ওপর ভর করে মোদীর টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন নিশ্চিত হয়েছে। কিন্তু বিরোধী জোটের বিস্ময়কর উত্থানে বিজেপি এক দশক পর পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে।

সংবাদ মাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি এককভাবে পেয়েছে ২৪০ আসন। আর এনডিএ এনডিএ জোট পেয়েছে ২৯৩ আসন। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এককভাবে ৯৯ আসন পেলেও তাদের ইনডিয়া জোট ২৩২ আসন জিতে নিয়েছে।