মামলা তুলে না নেওয়ায় ভাতিজাকে পিটিয়ে হত্যা

ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় মামলা তুলে না নেওয়ায় রমজান আলী (৩৬) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে চাচার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মোসলেম উদ্দিন আহত হয়েছেন। বুধবার (৫ জুন) সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রমজান আলীর মৃত্যু হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (৪ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পারাইল গ্রামে দুই পক্ষের মারামারির ঘটনা ঘটে। নিহত রমজান আলী ওই এলাকার মোসলেম উদ্দিনের ছেলে। কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, নিহতের বাবা মোসলেম উদ্দিন ও চাচা মজিবুর রহমান দুই ভাই। তাদের মাঝে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ২০১৬ সালে নিহত রমজান আলী জমি নিয়ে বিরোধে চাচা মজিবুর রহমানের নামে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় মজিবুর রহমান ও তার লোকজন কয়েক মাস কারাভোগ করেন। সম্প্রতি ওই মামলায় রায় দেওয়ার কথা রয়েছে। ওই মামলায় মঙ্গলবার আদালতে হাজিরা দেন মজিবুর রহমান ও অন্যান্য আসামিরা। এদিন হাজিরা দিয়ে বের হয়ে বাড়িতে ফিরে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দেন চাচা মজিবুর রহমান। পরের ওই দিন দিবাগত রাতে রমজান আলী নিজের মাছের খামার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন।

পথিমধ্যে মজিবুর রহমানসহ ১০/১২ জন রমজান আলীকে লাঠি ও রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। আহত অবস্থায় রমজানকে একটি পুকুরে ফেলে দেওয়ার সময় তার বাবা মোসলেম উদ্দিন ফেরাতে যায়। এ সময় মোসলেম উদ্দিনকেও কুপিয়ে আহত করে। পরে তাদের ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এলে মজিবুর রহমান ও তার লোকজন পালিয়ে যায়। এরপর স্থানীয়রা রমজান আলী ও তার বাবা মোসলেম উদ্দিনকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রমজান আলী মারা যায়।

ওসি মাইন উদ্দিন বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।