চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির নেপচুন চা বাগানের চা শ্রমিক জেসমিন আক্তার। বয়স ৫৭। এবার দেশসেরা পাতা চয়নকারী হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন। কুমিল্লা জেলায় জন্ম হলেও ১৬ বছর বয়সে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির নেপচুন চা বাগানের এক শ্রমিকের সাথে বিয়ে হয় জেসমিনের। বিয়ের পিঁড়িতে বসেই স্বামী আবদুল বারেকের সঙ্গে চলে আসেন নেপচুন চা বাগানে। সেখানে সংসার শুরুর পরপরই স্বামীর সঙ্গে লেগে পড়েন চা বাগানের কাজে।
৪১ বছর ধরে এই কাজই করে চলেছেন তিনি। তার স্বামী বারেক পাতা সংগ্রহকারী না হলেও বাগানে অন্য কাজের সঙ্গে যুক্ত। তাদের দুই ছেলে, দুই পুত্রবধূ, মেয়ে ও মেয়ে জামাইও চা বাগানে কাজ করেন। তার পরিবারের সবাই চা বাগানে কাজ করলেও নাতি-নাতনিদের পড়ালেখা করাতে চান তিনি।
প্রতি ঘণ্টায় ৪৮ কেজির মতো পাতা তুলতে পারেন জেসমিন আক্তার। গত এক বছরে তিনি পাতা তুলেছেন ২৫ হাজার ২১৭ কেজি। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এ বছর ‘জাতীয় চা পুরস্কার’ পেয়েছেন। সারা দেশে সর্বোচ্চ চা পাতা চয়নকারী শ্রমিক হিসেবে জেসমিন বাংলাদেশ চা বোর্ডের এই পুরস্কার পেয়েছেন। মঙ্গলবার ঢাকায় জাতীয় চা দিবসের অনুষ্ঠানে তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
নেপচুন চা বাগানের কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, 'ফটিকছড়িতে ১৯৬০ সালে ২৭০০ একর জায়গার ওপর তাদের বাগান প্রতিষ্ঠিত হয়। শ্রমিকরা নিরলস শ্রম দিয়ে এ বাগানকে একটি পর্যায়ে এনেছেন।'
গতবারও এই পুরস্কার পেয়েছিলেন নেপচুন চা বাগানের এক শ্রমিক, তার নাম উপলক্ষী ত্রিপুরা। ইস্পাহানি গ্রুপের মালিকানাধীন এ বাগানটি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুর থানার নারায়নহাট ইউনিয়নে অবস্থিত।