বিশ্ব ফ্যাটি লিভার দিবস উপলক্ষে আজ বুধবার দৈনিক দেশ রূপান্তর কার্যালয়ে গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়ে মোহাম্মদ এবাদুল করিম ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি নতুন ওষুধ শিগগির সহনীয় মূল্যে বাজারজাতকরণের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) হেপাটোলজি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। দেশ রূপান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোস্তফা মামুনের সভাপতিত্বে ও ফিচার এডিটর মোহসীনা লাইজুর সঞ্চালনায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকের মিডিয়া পার্টনার ছিল দৈনিক দেশ রূপান্তর। সহযোগিতায় ছিল বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি।
এক প্রশ্নের জবাবে বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ এবাদুল করিম বলেন, আমরা ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় জায়গা করে নেব। এর ফলে আমরা এতদিন ধরে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে প্যাটেন্টভুক্ত ওষুধ উৎপাদনের যে সুবিধা পেয়ে আসছিলাম তা বাতিল হয়ে যাবে। এই সুবিধা বাতিল হয়ে গেলে ঝুঁকিতে পড়বে ওষুধ শিল্প। এতদিন আমরা বিদেশের যে কোনো ওষুধ তৈরি করতে পারতাম। কিন্তু এই সুবিধা বাতিল হয়ে গেলে আমরা সমস্যায় পড়ে যাব। তখন প্যাটেন্টেড ওষুধ তৈরি করতে চাইলে মূল কোম্পানিকে রয়্যালটি দিতে হবে। এতে ওষুধের দাম অনেক বেড়ে যাবে।
ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে তিনি বলেন, ওষুধের মূল্য কিছুটা বেড়েছে কারণ গত দুই বছরের ডলারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। আমাদের ওষুধ উৎপাদন করতে যে খরচ হয় তার একটা বড় অংশ ওষুধের কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যয় করতে হয়। ডলারের দাম বাড়তে থাকলে বাজারে টিকে থাকা মুশকিল হবে। এটা ঠিক যে ওষুধের দাম বাড়ার কারণে রোগীরা কষ্টে আছেন। রোগীরা তার প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে পারছে না, কেন না সবার জীবনযাত্রার মান সমান নয়। ইতোমধ্যে জিনিসপত্রের দাম ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে যা বড় সংকট।
মোহাম্মদ এবাদুল করিম মনে করেন, সরকার যদি গবেষণার পেছনে দুই হাজার কোটি টাকা খরচ করে তাহলে এই সুবিধা সারা জীবন ভোগ করবে। সুতরাং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে গবেষণায় মনোযোগ দিতে হবে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। আমরা তো উন্নয়নশীল দেশের পর উন্নত বিশ্বের পরিণত হতে চাই। সেজন্য সব বিষয়ে আমাদের সেভাবেই প্রস্তুতি নিতে হবে।