ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেছেন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) থেকে নকশা অনুমোদন নেওয়ার সময় অনেক ভবনে পার্কিং দেখানো হয়। সেসব পার্কিংয়ের স্থানে গাড়ি পার্ক করার কথা। কিন্তু অনেক ভবনে পার্কিংয়ের স্থানে দোকান দেওয়া হয়েছে। আর গাড়ি পার্ক করা হচ্ছে রাস্তায়। পার্কিংয়ের জায়গায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ঈদের পর মাঠে নামবে ডিএনসিসি। গতকাল দুপুরে রাজধানীর গুলশান-বাড্ডা লিংক রোডে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মেয়র অনুষ্ঠান স্থলে পৌঁছে গুলশান লেকে অবৈধ পয়ঃবর্জ্যরে সংযোগ দেখতে পান। তখন তিনি কলাগাছ দিয়ে অবৈধ সংযোগ বন্ধের নির্দেশ দিলে সংযোগটি কলাগাছ দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
মেয়র বলেন, ‘শহরের প্রায় সব ভবনেই এয়ার কন্ডিশন (শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র) লাগানো আছে, জেনেরেটর লাগানো আছে। সবাই হাজার হাজার টাকা খরচ করে ঘর ঠা-া করার জন্য এসি লাগাচ্ছে, কিন্তু অনসাইটে সুয়ারেজ ব্যবস্থাপনার বিষয় কেউ চিন্তা করছে না। নির্বিচারে শহরের খালে, ড্রেনে সুয়ারেজের সংযোগ দিয়ে পানি, বায়ু দূষণ করছে। এগুলো বন্ধ করতে হবে। এসব অবৈধ সংযোগ বন্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব।
মেয়র বলেন, ‘গত বছর আমরা গুলশান ও বারিধারায় একটা সার্ভে করেছিলাম। মাত্র ৫ শতাংশ বাড়িতে কমপ্লায়েন্স পেয়েছি। বেশিরভাগ বাড়িতেই সুয়ারেজ ব্যবস্থা নেই। তাদের পয়ঃবর্জ্যরে সংযোগ ড্রেনে, খালে দিয়ে রেখেছে। আমি অনেক ভবনে অবৈধ সংযোগ বন্ধে কলাগাছ দিয়ে দিয়েছিলাম। আমরা এ বছর আবারও অভিযান শুরু করব।’
ডিএনসিসি মেয়র বলেন, ‘এই শহরকে ভালোবাসতে হবে। শহরের রাস্তা, খাল, ড্রেন যেন নোংরা না হয় এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। যার বাড়ির সামনের গাছ দেখে রাখতে হবে। আমরা দেখি দোকান সকালে শুরু করার সময় সবাই ঠিকই ঝাড়ু দেয়। কিন্তু ঝাড়ু দিয়ে ময়লাটা রাস্তায় ফেলে দেয়। এটা ঠিক না। আমি অনুরোধ করব প্রতিটি দোকানের সামনে ময়লা ফেলার ঝুঁড়ি রাখবে। দোকানের ও মার্কেটের সামনের রাস্তা ও ফুটপাত পরিচ্ছন্ন রাখবেন।
মেয়র বলেন, শহরে গাছ লাগানোর জায়গা অপর্যাপ্ত তাই সবাইকে ছাদবাগান করার আহ্বান করছি। ছাদবাগান করলে ১০ শতাংশ হোল্ডিং ট্যাক্স ছাড়া দেওয়ার বিষয়টি ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিয়েছে। নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। নীতিমালা প্রণয়ন হলে হোল্ডিং ট্যাক্স ছাড় দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে রাজউকের সদস্য মেজর (ইঞ্জিনিয়ারিং) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত, সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার, ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মফিজুর রহমান, সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলর মোছা. হাজেরা খাতুন এবং আমেনা বেগম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।